
বহুল আলোচিত রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোনমের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানির উপর। তাঁর জামিন বহাল থাকবে, নাকি তা বাতিল করে ফের জেলে পাঠানো হবে, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে আগামী ২১ জুলাই।
মেঘালয় পুলিশের চ্যালেঞ্জের পর সোনমের জামিনের বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আদালত ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছে এবং আরও কিছু নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কীভাবে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছাল মামলা?
সোনমের জামিনের বিরুদ্ধে মেঘালয় পুলিশ ১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। ৩ জুলাই মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয় এবং ৯ জুলাই প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই শুনানিতে মেঘালয় পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, নিম্ন আদালত এবং পরে মেঘালয় হাইকোর্ট আইনগত ভুল ব্যাখ্যা করে সোনমকে জামিন দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, চার্জশিটে একটি ধারার নম্বর ভুল লেখা থাকলেই কোনও অভিযুক্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে জামিন পাওয়ার অধিকারী হয়ে যান না।
সুপ্রিম কোর্ট প্রথম শুনানির পর সোনমকে নোটিস পাঠিয়ে জানতে চায়, কেন তাঁর জামিন বাতিল করা হবে না। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয় ১৪ জুলাই।
কেন পিছিয়ে গেল সিদ্ধান্ত?
১৪ জুলাইয়ের শুনানিতে মনে করা হচ্ছিল, সেদিনই সোনমের জামিন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। আদালত জানতে চায়, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ কি সোনমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, কোন অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে?
আদালত মেঘালয় পুলিশকে সংশ্লিষ্ট নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নথি প্রস্তুত করতে সময় চাওয়ায় আদালত আরও এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করে। ফলে মামলার পরবর্তী শুনানি এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দিন ধার্য হয়েছে ২১ জুলাই।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে একটি ভুল ধারা
এই মামলার মূল বিতর্ক একটি আইনি ভুলকে ঘিরে। অভিযোগ, রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় সোনমের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৩ ধারা প্রয়োগ করার কথা থাকলেও, ভুলবশত ৪০৩ ধারা উল্লেখ করা হয়।
সমস্যা হল, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মোট ৩৫৮টি ধারা রয়েছে। ফলে ৪০৩ নম্বর নামে কোনও ধারার অস্তিত্বই নেই।
এই ভুলের ভিত্তিতেই শিলংয়ের নিম্ন আদালত প্রশ্ন তোলে, যদি চার্জশিটে উল্লেখ করা ধারার অস্তিত্বই না থাকে, তবে অভিযুক্তকে ঠিক কোন অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে? এই যুক্তিতেই চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল সোনমকে জামিন দেয় আদালত।
হাইকোর্টও বহাল রাখে জামিন
নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেঘালয় পুলিশ হাইকোর্টে যায়। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি পান সোনম। মেঘালয় হাইকোর্টও পর্যবেক্ষণ করে, ভুল ধারার উল্লেখের কারণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথাযথভাবে স্পষ্ট হয়নি। আদালতের মতে, এতে অভিযুক্তের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। সেই কারণেই হাইকোর্টও সোনমের জামিন বহাল রাখে।
মামলার পটভূমি
গত বছরের মে মাসে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের পর সোনম-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে মেঘালয় পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন কথিত ভাড়াটে খুনি এবং সোনমের এক ঘনিষ্ঠ পরিচিত। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিটে সোনমকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে।
বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের দিকে নজর রয়েছে সকলের। আগামী ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া নথি ও উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করেই ঠিক হবে, সোনমের জামিন বহাল থাকবে, নাকি তাঁকে ফের জেলে যেতে হবে।