
এবার শীতকালে হয়তো সোয়েটার পরার প্রয়োজনই পড়বে না। ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি শক্তিশালী এল নিনো রয়েছে, তা সকলেরই জানা। তবে সেই এল নিনো আরও শক্তিশালী আকার নিচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) সতর্ক করেছে, এই জলবায়ুগত বদল সম্ভবত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হবে। সর্বশেষ পূর্বাভাসে একটি ব্যতিক্রমী শক্তিশালী ঘটনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেখানে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসগারের সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উপরে এবং আগামী মাসগুলিতে তা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে চরম উষ্ণ আবহাওয়া ইতিমধ্যেই একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে শুরু করে ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যা পর্যন্ত, এই বছর অস্বাভাবিক আবহাওয়ার ধরণ বারবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে।
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনো আগামী মাসগুলিতে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর অর্থ এই নয়, সর্বত্র আবহাওয়ার প্রভাব একইরকম হবে। ভারতের উপর এর প্রভাব অন্যান্য সামুদ্রিক ও বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার উপর নির্ভর করবে।
WMO-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ, যা অত্যন্ত বেশি। চলতি বছরের শেষেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছনোর আগে এল নিনো আরও শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরাস এটিকে 'গডজিলা এল নিনো' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব সেলেস্কে সাওলও আরও জোরাল প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, কৃষি, জল, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য বিঘ্ন ঘটানোর আগেই সরকারকে পদক্ষেপ করতে হবে।
চলতি বছর মে-জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশি ছিল। জুলাই মাসে অস্বাভাবিকতা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছিল। জুলাই এবং অগাস্টের শুরুতে কিছু এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।
ক্রমবিকাশমান আবহাওয়ার ধরণটি এই প্রশ্ন তুলছে, ২০২৬-২৭ সালে ভারত দুর্বল শীতের সাক্ষী হবে? WMO-র সর্বশেষ মরশুমি পূর্বাভাসে ছাব্বিশের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় সমস্ত স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে, বলা হয়েছে।
কিন্তু শুধুমাত্র এল নিনোর তীব্রতাই প্রতিটি দেশে কী ঘটবে তা নির্ধারণ করে না। এক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হবে স্থানীয় আবহাওয়া এবং ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর সহ আরও বেশ কয়েকটি কারণ। শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রশান্ত মহাসাগরের অবস্থার পরিবর্তন বৃহৎ পরিসরের বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন এভং দেশের বৃষ্টিপাতের ধরণকে প্রভাবিত করতে পারে।
শুধুমাত্র এল নিনোর উপর ভিত্তি করে করা পূর্বাভাস দিয়ে বারতের আবহাওয়া কয়েক মাস আগে থেকে নিশ্চিত ভাবে ভবিষ্য়দ্বাণী করা যায় না।