
আজ মোদী সরকার দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে সবচেয়ে বড় উপহার দিয়েছে। সরকার আজ লোকসভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল ২০২৬, দ্বিতীয়টি সীমানা নির্ধারণ বিল ২০২৬ এবং তৃতীয়টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংশোধনী বিল, ২০২৬। এই বিলগুলির উদ্দেশ্য হল ২০২৩ সালে পাস হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইনকে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল আজ লোকসভায় এই তিনটি বিল পেশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এই বিলগুলি একসঙ্গে পাস হলে সকলেরই লাভ হবে।
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্নির্ধারণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, যারা ২৫-৩০ বছর আগে এর বিরোধিতা করেছিলেন, তারা রাজনীতির গভীরে যাননি, কিন্তু আজ অন্যরকম ভাবার ভুল করবেন না। গত ২৫-৩০ বছরে, তৃণমূল স্তরে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হওয়া বোনেদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা তৈরি হয়েছে, তাঁরা তৃণমূল স্তরের জনমত নির্মাতা। আজ তাঁরা সোচ্চার হয়ে বলছেন, 'এখন আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করুন, আর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া তো বিধানসভা এবং সংসদেই হয়ে থাকে।'
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, '২০২৩ সালে যখন আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করছিলাম, তখন লোকেরা বলছিল, 'তাড়াতাড়ি করুন।' ২০২৪ সালে এটা সম্ভব ছিল না, কারণ এত অল্প সময়ে তা করা যেত না। এখন, ২০২৯ সালে, আমাদের হাতে সময় আছে। ২০২৯ সালেও যদি আমরা এটা না করি, তাহলে পরিস্থিতি কী হবে তা আমরা কল্পনা করতে পারি। এখন সময়ের দাবি হলো, আমরা যেন আর দেরি না করি।' এই প্রসঙ্গে জনগণনা ও কোভিড সময়ের কারণে বিল নিয়ে দেরি হওয়ার বিষয়টিও টেনে আনেন মোদী।
মহিলাদের নেতৃত্বদানের প্রসঙ্গ তুলে সংসদে মোদী বলেন, 'দেশে প্রায় ৬৫০টিরও বেশি জেলা পঞ্চায়েত রয়েছে। প্রায় ২৭০ জন মহিলা এগুলোর নেতৃত্ব দেন। একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর চেয়েও তাঁদের দায়িত্ব বেশি এবং তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। প্রায় ৬,৭০০টি ব্লক পঞ্চায়েতের মধ্যে ২,৭০০টিরও বেশি পঞ্চায়েতের নেতৃত্ব দেন মহিলারা। আজ, সারা দেশে ৯০০টিরও বেশি শহরে মহিলারা স্থানীয় নগর সংস্থাগুলির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি বিশ্বাস করি, দেশ আজ যে অগ্রগতি করছে তাতে তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে, আমাদের অবশ্যই এই ঋণ স্বীকার করতে হবে।'
বিরোধীদের লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'অনেকে মনে করেন এর পেছনে মোদীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা এর বিরোধিতা করলে স্বাভাবিকভাবেই আমি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হব, আর সমর্থন করলে কারও কোনও ক্ষতি হবে না।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা কোনও কৃতিত্ব চাই না। বিলটি পাস হওয়ামাত্রই আমি একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে প্রস্তুত। আমি আপনাদেরকে অগ্রিম কৃতিত্বের জন্য একটি ব্ল্যাঙ্ক চেকও দিয়ে দিচ্ছি।'