
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রেখেছে ভারত। আর তা নিয়ে বিদেশমন্ত্রককে 'চাপ' দিচ্ছে বিশ্বব্যাঙ্ক গঠিত 'Court of Arbitration' বা (CoA)। তাদের দেওয়া রায় সোমবার প্রত্যাখ্যান করল মোদী সরকার। সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে দেওয়া ওই রায়কে অবৈধভাবে গঠিত একটি সংস্থার সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখনও বহাল রয়েছে।
ওই আদালত জানিয়েছিল পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি এখনও বহাল রয়েছে। তখনই প্রতিক্রিয়া দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় ভারতের বিদেশমন্ত্রক। ওই আদালতের তরফে জম্মু ও কাশ্মীরের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ সীমিত রাখার জন্যও ভারতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের দ্বারা গঠিত সেই আদালত জানায়, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে ভারতের দেওয়া যুক্তি তারা মানে না। তাই সেই চুক্তিকে কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে চুক্তির অধীনে ভারতের যে বাধ্যবাধকতাগুলি রয়েছে, সেগুলিও মেনে চলতে হবে। তবে ভারত ওই রায় এবং যে সংস্থা রায় দিয়েছে, তার আইনি এক্তিয়ার বা কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে দু’টি রায়ই প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, 'আজ অবৈধভাবে গঠিত তথাকথিত 'Court of Arbitration' সিন্ধু জল চুক্তির অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে একটি রায় দিয়েছে বলে দাবি করেছে। এই তথাকথিত আদালত চুক্তির শর্তাবলির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে বিশ্বব্যাঙ্কের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। ভারত এই তথাকথিত রায়কে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এই অবৈধভাবে গঠিত সংস্থার আগের সমস্ত সিদ্ধান্তও ভারত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।'
প্যানেলের এখতিয়ারই মানছে না ভারত
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত কখনও আইনের দৃষ্টিতে এই 'Court of Arbitration'এর অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। শুরু থেকেই এই সংস্থার কার্যক্রম এবং আগের রায়গুলিও প্রত্যাখ্যান করে এসেছে নয়াদিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, 'ভারত কখনও এই অবৈধভাবে গঠিত তথাকথিত Court of Arbitration-এর আইনি অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। এই সালিশি সংস্থা গঠন করাটিই সিন্ধু জল চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন বলে ভারত ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে। এই কারণেই ভারত কখনও এই সংস্থার সামনে হাজির হয়নি এবং এর আগের কোনও সিদ্ধান্তকেও গুরুত্ব দেয়নি।'
মোদী সরকারের দাবি, দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়ে, বিশেষ করে দেশের পরিকাঠামো প্রকল্প সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে, এই সালিশি প্যানেলের কোনও কর্তৃত্ব নেই। MEA জানিয়েছে, 'এই তথাকথিত Court of Arbitration-এর ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনও এখতিয়ারই নেই।'
বিদেশ মন্ত্রক আরও একধাপ এগিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে এই সংস্থার দেওয়া কোনও সিদ্ধান্তই ভারতের হাতে নেওয়া প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে ভারতের পদক্ষেপের উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না।
কেন সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছিল ভারত?
গত বছর এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে।
তারপর থেকে পাকিস্তানের নেতারা বারবার জলকে তাঁদের ‘রেড লাইন’ বলে উল্লেখ করেছেন। ভারতকে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের কয়েকজন নেতা চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন। তবে ভারত শুরু থেকেই জানিয়ে এসেছে, সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন হয়নি।