
বিশ্বের ২৫টি সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ২২টিই ভারতের। দেশের একাধিক শহরের বাতাস রীতিমতো বিপজ্জনক। এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা। AQI.in-এর রিয়েল-টাইম ডেটা বলছে, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পঞ্জাব থেকে মহারাষ্ট্র; বিভিন্ন রাজ্যের শহর রয়েছে এই তালিকায়। তবে এই তালিকায় আপাতত দিল্লি ও কলকাতা নেই। তাহলে কোন শহরগুলি সবচেয়ে দূষিত?
২৪ অক্টোবর সকাল ১১টার তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের মিরাট। সেখানে বায়ুর গুণমান সূচক বা AQI ছিল ৩৮৬। চতুর্থ স্থানে গাজিয়াবাদ, AQI ৩৭০। হরিয়ানার পানিপথ রয়েছে পঞ্চম স্থানে। সেখানে AQI ৩৬৯। নয়ডা এবং গ্রেটার নয়ডার AQI ছিল যথাক্রমে ৩৬৭ ও ৩৬১। এই দুই শহরও রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বায়ু, এমন দশ শহরের মধ্যে।
দূষণের তালিকায় রয়েছে হাপুর, মুজফ্ফরনগর, মোরাদাবাদ, সোনিপত এবং কর্নালের মতো শহরও। শুধু উত্তর ভারত নয়, মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডি ও থানে এবং পঞ্জাবের ভাতিন্ডা ও ফরিদকোটের বাতাসও দূষিত। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরও রয়েছে তালিকায়।
দূষণ বাড়ছে কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া, কনস্ট্রাকশনের ধুলো থেকেই মূলত বাতাসে দূষণ বাড়ছে। এক এলাকার দূষণ আশেপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে নিজেদের অজান্তেই ফুসফুসের বারোটা বাজাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
তালিকায় নেই দিল্লি
দিল্লির দূষণ যে কতটা সাংঘাতিক, তা কারও অজানা নয়। ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ দিল্লির AQI ছিল ২৯৬। এর আগের দিন একই সময়ে তা ছিল ৩৩৭। অর্থাৎ, এক দিনে সূচক কমেছে ৪১ পয়েন্ট। সেই কারণেই এই তালিকায় দিল্লির নাম নেই। তবে AQI ২৯৬-ও কিন্তু গুরুতর দূষণের ইঙ্গিত।
তবে এই তালিকা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে বানানো। দূষণের মাত্রা বদলালে তালিকায় শহরগুলির অবস্থানও পাল্টাতে পারে। সামনেই শীতকাল। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। মৌসুমি বায়ুর চলাচলের পথও বদলে যায়। এর ফলে এই সময় বায়ু দূষণের সূচক আরও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গোটা পরিস্থিতির দিকে এখনই সরকারি স্তরে নজরদারি প্রয়োজন। কারণ জল বা মাটি দূষণের মতো বায়ু দূষণ চট করে সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। কিন্তু এর প্রভাবও যে বেশ মারাত্মক, তা বলাই বাহুল্য।