
রাম মন্দিরে যাবেন বলে ঠিক করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তার আগে রামভক্ত ও সাধু-সন্তদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার আজতক পঞ্চায়েত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, অতীতে রামভক্তদের উপর অত্যাচার এবং সাধু-সন্তদের অপমান করা হয়েছে। তার জন্য সমাজবাদী পার্টির ক্ষমা চাওয়া উচিত।
১৯৯০ সালে করসেবকদের উপর পুলিশের গুলিচালনার প্রসঙ্গ তুলে সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে সরব হন যোগী। তাঁর অভিযোগ, অতীতে রামভক্ত ও সাধু-সন্তদের অপমান করেছিল এই দল।
যোগী বলেন, 'যাঁরা অযোধ্যাকে অবহেলা করেছেন, অপমান করেছেন, রামভক্তদের উপর গুলি চালিয়েছেন এবং সাধু-সন্তদের উপর লাঠিচার্জ করিয়েছেন, তাঁদের অবশ্যই অযোধ্যায় আসা উচিত। তবে তার আগে ক্ষমা চাইতে হবে। একবার রামভক্তদের কাছে এবং একবার সাধু-সন্তদের কাছে ক্ষমা চান। নিজেদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হন।'
সমাজবাদী পার্টি সম্প্রতি জানিয়েছে, আগামী ১২ ডিসেম্বর অযোধ্যার রাম মন্দির এবং হনুমানগড়ি মন্দিরে যাবেন অখিলেশ যাদব ও তাঁর স্ত্রী ডিম্পল যাদব। তারপরেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
যদিও যোগী সরাসরি অখিলেশ বা সমাজবাদী পার্টির নাম করেননি, তাঁর মন্তব্যে স্পষ্টতই নিশানা করা হয়েছে ওই দলকে। বিশেষ করে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সময় সমাজবাদী পার্টির সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ১৯৯০ সালে মুলায়ম সিং যাদব উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন করসেবকদের উপর পুলিশের গুলিচালনার ঘটনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অখিলেশের আচরণ নিয়েও কটাক্ষ যোগীর
অযোধ্যায় সম্প্রতি একটি ধর্মীয় আলোচনাসভায় অখিলেশ যাদবের যোগদান নিয়েও পরোক্ষে কটাক্ষ করেন যোগী। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কিছু রাজনৈতিক নেতার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অনেকেই কথার আসরে কী ধরনের শালীনতা বজায় রাখতে হয়, তা বোঝেন না।
যোগী বলেন, 'কখনও কখনও এই মানুষগুলিকে দেখে অবাক হয়ে যাই। তাঁরা যখন ধর্মীয় আলোচনাসভায় যান, তখন কথার আসরের শিষ্টাচার সম্পর্কেও তাঁদের কোনও ধারণা থাকে না। এটা কি কথার আসর, নাকি মুশায়রা? সেটাও তাঁরা বোঝেন না।'
রাম জন্মভূমি মামলার আইনি লড়াইয়ের সময় যাঁরা আদালতে ভগবান রামের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদেরও নিশানা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'যাঁরা আদালতে ভগবান রামের অস্তিত্ব অস্বীকার করার জন্য একঝাঁক আইনজীবী নিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা এখন অন্তত তাঁর অস্তিত্ব মেনে নেওয়ার মতো বুদ্ধি পেয়েছেন। এটাই আমাদের আদর্শগত জয়।'
'অযোধ্যা রাজনীতির নয়, বিশ্বাসের শহর'
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর মতে, তাঁর কাছে অযোধ্যা রাজনীতির বিষয় নয়, বরং বিশ্বাসের শহর। ভক্তিভরে তিনি এই মন্দির শহরে যান। প্রতি বছর দীপোৎসবের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে যে নতুন শুরুর বার্তা দেওয়া হয়, সেখান থেকেই নতুন শক্তি পান বলে জানান তিনি।
যোগীর কথায়, 'প্রতিটি দিনই শেষ দিন। আর প্রতিটি শেষ দিনই নতুন শুরুর বার্তা নিয়ে আসে। প্রথমবার যখন দীপোৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল, তখন অনেকে প্রশ্ন করেছিলেন, এটাই কি শেষবার? আমরা বলেছিলাম, এটা আসলে নতুন শুরু। সেই নতুন শুরুর থেকে শক্তি পেতেই আমরা অযোধ্যা ধামে আসি।'
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, রামভক্তদের ভাবাবেগকে সম্মান জানানো এবং শ্রদ্ধেয় সাধু-সন্তদের সঙ্গে নিয়ে অযোধ্যার উন্নয়ন করা তাঁদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
রাম জন্মভূমি আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রায় ৫০০ বছরের লড়াই এবং রামভক্ত, সাধু-সন্ত ও করসেবকদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ অযোধ্যার এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
১৯৪৯ সালের ঘটনা এবং ১৯৯০-এর দশকে করসেবকদের উপর পুলিশের গুলিচালনার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, রাম জন্মভূমি আন্দোলনকে দমন এবং রাম মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়ার একাধিক চেষ্টা হয়েছিল।
অযোধ্যার উন্নয়ন এবং শহরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব এবং বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারকে কৃতিত্ব দেন যোগী আদিত্যনাথ।