2026- সালের মার্চ মাসে আমেরিকার নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক এবং তাঁর সঙ্গে আরও ছয় জন ইউক্রেনীয় নাগরিককে যৌথভাবে গ্রেপ্তার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। প্রথম যখন এই মামলা রুজু করা হয়েছিল, তখন কিন্তু তা হেলাফেলা করার মতো ছিল না। প্রাথমিক এফআইআরে ইউএপিএ (UAPA)-র মতো কড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা ১৮ সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এনআইএ-র তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছিল যে এই বিদেশি দলটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বা প্রয়োজনীয় কোনও অনুমতিছাড়াই ভারতের মিজোরাম রাজ্যে প্রবেশ করেছিল এবং সেখান থেকে সুকৌশলে সীমান্ত পার করে মায়ানমারের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল! শুধু ভারতেই নয়, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মায়ানমারের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী বা এথনিক আর্মড গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং সেই জঙ্গলে বসে ওই বিদ্রোহী বাহিনীকে ড্রোন ওয়ারফেয়ার (Drone Warfare) বা আধুনিক ড্রোন চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া বা তার বন্দোবস্ত করা! একটু চিন্তা করে দেখুন তো, আমেরিকার একজন নাগরিক এবং বেশ কয়েকজন ইউক্রেনীয় নাগরিক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংবেদনশীল সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারের গৃহযুদ্ধে ড্রোন প্রশিক্ষণের মতো মারাত্মক খেলায় যুক্ত হচ্ছেন—এর থেকে বড় জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি আর কী হতে পারে? আর ঠিক এই কারণেই যখন তাদের গ্রেপ্তার করা হলো, তখন সারা দেশে একটা চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল যে এই বিদেশিরা ঠিক কোন গোপন এজেন্ডা নিয়ে ভারতে ঘাঁটি গেড়েছিল।