
২৮ অগাস্ট রাখিবন্ধন উত্সব। ভাই-বোনের সম্পর্কের একটি মধুর পর্ব। ভারতের একটি বড় অংশে পালিত হবে রাখিবন্ধন। ওই দিনই আবার চন্দ্রগ্রহণও রয়েছে। এই বছর রাখি পূর্ণিমা তিথিতে এক বিরল সংযোগ ঘটছে, কারণ ওই দিনই ২০২৬ সালের শেষ চন্দ্রগ্রহণ। রাখি বন্ধনের ধর্মীয় রীতির শুভ মুহূর্ততে এই চন্দ্রগ্রহণের কোনও প্রভাব পড়ছে কি না, জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে, জেনে নেওয়া যাক।
২৮ অগাস্ট চন্দ্রগ্রহণ কখন হবে?
২৮ অগাস্টের চন্দ্রগ্রহণ আংশিক গ্রহণ হবে। ভারতীয় সময় সকাল ৮ থেকে শুরু হবে গ্রহণ। সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে। এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণের মোট সময়কাল ৫ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট। ভারতে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। প্রধানত ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে গ্রহণ দেখা যাবে। ফলে ভারতে কোনও সূতককাল নেই।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত মত অনুযায়ী, গ্রহণের সূতককাল ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নিয়ম সাধারণত সেই সব অঞ্চলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে গ্রহণটি দৃশ্যমান হয়। ২৮ অগস্ট ২০২৬-এর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে না। কলকাতা-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রহণের কোনও পর্যায়ই দৃশ্যমান হবে না।
সূতককাল কি ভারতে প্রযোজ্য?
যেহেতু ২৮ অগস্টের চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান নয়, প্রচলিত ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী এ দেশে এর সূতককাল কার্যকর হবে না। ফলে গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনও বিধিনিষেধ মানার প্রয়োজন নেই।
পুজো-পাঠ ও ধর্মীয় কাজ
সূতক প্রযোজ্য না হওয়ায় মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা বা দৈনন্দিন পুজো-পাঠ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই—এমনটাই প্রচলিত জ্যোতিষীয় মত। ভক্তরা স্বাভাবিক নিয়মে পুজো, প্রার্থনা, দান-ধ্যান এবং অন্যান্য ধর্মীয় কাজ করতে পারেন।
২৮ অগাস্ট রাখি বাঁধার শুভ সময়
২০২৬ সালে রাখি পালিত হবে ২৮ অগস্ট, শুক্রবার। ওই দিন শ্রাবণ পূর্ণিমা থাকছে এবং ভদ্রকাল আগের রাতেই শেষ হয়ে যাবে। ফলে ২৮ অগাস্ট সকালে রাখি বাঁধার জন্য শুভ সময় রয়েছে। বিভিন্ন পঞ্জিকায় সময়ের সামান্য পার্থক্য থাকলেও, দিল্লির হিসাবে পূর্ণিমা ২৮ অগাস্ট সকাল প্রায় ৯টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত রয়েছে। চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান না হওয়ায় রাখি বন্ধনের আচার-অনুষ্ঠানে গ্রহণের কোনও বাধা তৈরি হবে না। তাই বোনেরা নির্দ্বিধায় শুভ সময়ে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধতে পারেন।
মন্ত্রজপ করা যাবে কি?
জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কেউ চাইলে গ্রহণের সময় বাড়িতে থেকে মন্ত্রজপ বা প্রার্থনা করতে পারেন। রাহু-কেতুর মন্ত্র, মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র কিংবা নিজের ইষ্টদেবের মন্ত্র জপ করা যেতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারভিত্তিক বিষয়, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উপকারের দাবি নয়।