
তিনি দেব চিকিত্সক। হিন্দু পুরান অনুযায়ী, তিনি এমন একজন ডাক্তার, যিনি প্রাচীন ভারতে চিকিত্সা বিজ্ঞানে মিরাকল ঘটিয়েছিলেন। আয়ুর্বেদে তাঁর অবদান সুবিশাল। তাই তাঁকে দেবতা বলা হয়। তিনি হলেন ধন্বন্তরি। বেদ ও হিন্দুপুরানে তাঁকে বলা হয়, অপারেশন বা অস্ত্রোপচারের দেবতা। আয়ুর্বেদ চিকিত্সা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষকে সারিয়ে তুলতেন। তাই আজও ভাল ডাক্তারকে অনেকে প্রশংসা করে বলেন, 'সাক্ষাত্ ধন্বন্তরি'।
ভগবান বিষ্ণুর অবতার ধন্বন্তরিকে মর্ত্যে পাঠানো হয়েছিল মানুষের চিকিত্সার জন্যই। সুস্বাস্থ্য ও নিরোগ থাকার জন্য আজ ধন্বন্তরি দেবতার পুজো হয়। আর সেই থেকেই নাম ধনতেরাস। ঠিক তাই। ধনতেরাসের সঙ্গে দূরদূরান্তেও সোনা, রুপো কেনা, কিংবা ঝাঁটা কেনার কোনও সম্পর্ক নেই।
ধনতেরাস নিয়ে নৃসিংহপ্রসাদের ব্যাখ্যা
পুরানবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির কথায়, 'ধনতেরাস ব্যাপারটা আমার কাছে খুব আশ্চর্য লাগে, আমাদের ছোটোবেলায় কোনও ধনতেরাস দেখিনি। তেরাস শব্দের অর্থ আমি জানি না, নিশ্চয়ই খুব ভাল অর্থ আছে এর। তবে আমার কাছে নিজের মতো করে একটা অর্থ লাগে, এই তেরাস যেন ত্রাস, ধনত্রাস যেন বলে মনে হয়। কেননা এর কোনও শাস্ত্রীয় ভিত্তি আমি দেখিনি।' তিনি আরও বলেন, 'ধন্বন্তরির যে পুজোর কথা বলা হয়, সেটা বোকা বোকা বলা হয়। কারণ ধন্বন্তরি একজন বৈদ্য, যাঁর সঙ্গে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের যোগ আছে, যিনি অমৃত নিয়ে উঠেছিলেন, এই সমস্ত হেলথ কেয়ারের ব্যাপার থেকে হঠাৎ করে টাকা-পয়সার ব্যাপারে চলে গেলাম যে গয়না একটা কিনতেই হবে। দেখুন যদি এমনি সোনা কেনেন তা ভাল কথা তার জন্য এই ত্রাস তৈরি করার প্রয়োজন নেই, যে না কিনলে পরে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে। এটা একটা আধুনিক ব্যাপার, এটাকে শুধুই বিজনেস শ্যুট বলেই মনে হয়।'
ধন্বন্তরি আসলে কে?
ভাগবত্ পুরান অনুযায়ী, দুধের সাগর থেকে অমৃতের পাত্র হাতে উত্থান হয়েছিল ধন্বন্তরির। অমৃত চলে গিয়েছিল অসুরদের দখলে। তখন ভগবান বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণ করে অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে সেই অমৃতের ভাণ্ড উদ্ধার করেন ও তা দেবতাদের বিতরণ করেন। আরও একটি কিংবদন্তি হল, আয়ুর্বেদকে পৃথিবীতে মানুষের সেবার জন্য কাজে লাগাতে দেবরাজ ইন্দ্র ধন্বন্তরিকে মর্ত্যে পাঠিয়েছিলেন।
ধনতেরাসে কেন পূজিত হন ধন্বন্তরি?
ভগবান ধন্বন্তরিকে মানুষের কাছে আয়ুর্বেদ চিকিৎসাশাস্ত্রের জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব দেওয়া হয়। চরক সংহিতা অনুসারে, আয়ুর্বেদের জ্ঞান চিরন্তন। প্রতিটি মহাজাগতিক চক্রের সূচনাতেই এই জ্ঞানের আবির্ভাব ঘটে। পৃথিবীতে যখন এই জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, তখন ভগবান বিষ্ণু ধন্বন্তরি রূপে অবতার গ্রহণ করে আয়ুর্বেদের জ্ঞান পুনরায় প্রচার করেন এবং মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করেন। সুশ্রুত, পৌষ্কলাবত ও ঔরভের মতো ঋষিদের আয়ুর্বেদ শিক্ষা দিয়েছিলেন ধন্বন্তরি। অগ্নিপুরাণে তাঁর শিক্ষার উল্লেখ রয়েছে। মানবজাতির কাছে এই ঐশ্বরিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার জন্যই তাঁকে আয়ুর্বেদের জনক বলা হয়।