
২০ না ২১ মার্চ, কবে পালিত হবে এবছরের ইদ -উল -ফিতর, এই নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা ভারতে ইদের দিন ঘোষণা করল কলকাতার নাখোদা মসজিদ। শনিবার, এদেশে পালিত হবে খুশির ইদ। চলছ পবিত্র রমজান মাস। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই মাস অত্যন্ত শুভ ও গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের জন্য রমজান এমন একটি মাস যেখানে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরানের প্রথম শ্লোক হজরত মুহাম্মদের কাছে আজ থেকে প্রায় ১,৪০০ বছর পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই এই মাসে, মুসলমানরা ফজরের নামাজের মাধ্যমে রোজা শুরু করেন এবং সূর্যাস্তের পর উপবাস ভঙ্গ করেন। এই রোজার মাসকে কোরবানি বা ত্যাগের মাস হিসাবে বিবেচনা করেন। টানা এক মাস ধরে পবিত্র রমজান মাস পালনের পর আসে মুসলমানদের প্রধান উৎসব খুশির ইদ (Eid) বা ইদ উল-ফিতর (Eid Ul-Fitr)।
চাঁদ রাত ও ইদ -উল -ফিতর ২০২৬-র তারিখ (Chand Raat -Eid Al-Fitr 2025 Date)
গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ইদ-উল-ফিতর-র কোনও নির্দিষ্ট দিন নেই। দশম মাসের আগে আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার পরেই ইদ পালিত হয়। সুতরাং, রমজানের শেষ দিনে চাঁদ দেখার পরের দিন খুশির ইদ পালন হয়। শাওয়ালের চাঁদটি সৌদি আরবে প্রথম দেখা যায়। আর সে অনুযায়ী অন্যান্য দেশে ইদ পালনের তারিখটি নিশ্চিত হয়। চাঁদ দেখার উপরই রমজানের শুরু এবং শেষ নির্ভরশীল। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, রমজান মাস কখনও ২৯ দিন তো কখনও ৩০ দিন হয়। এই বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাস হয়েছে। এই রমজান মাস শেষ হচ্ছে ২০ মার্চ। ভারতে ইদ পালিত হবে ২১ মার্চ।
নাখোদা মসজিদের তরফে ঘোষণা
১৯ মার্চ, নাখোদা মসজিদের তরফে ঘোষণা করা হয়, মসজিদ এ নাখোদা মারকাজি রুহিয়াত এ হিলাল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, ১৪৪৭ হিজরি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ২১ মার্চ ইদ -উল -ফিতর উদযাপিত হবে।
এই মুসলমান উৎসব মিঠি ইদ নামেও পরিচিত। ইসলামী ক্যালেন্ডার (হিজরি) অনুযায়ী নবম মাসটি হল রমজান মাস। আর দশম মাস অর্থাৎ শাওয়ালের প্রথম দিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় ইদ। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, যারা সৎ উদ্দেশ্য প্রার্থনা এবং উপবাস করেন, ঈশ্বর তার ভক্তদের অতীতের পাপকে ক্ষমা করেন। দিনটি পবিত্র নবী হজরত মোহাম্মদ যেদিন পবিত্র কোরানের প্রথম প্রকাশনা হিসাবে চিহ্নিত। ইদ-উল-ফিতর কথাটির অর্থ উপবাস ভঙ্গের উত্সব। রমজান মাসের উপবাস ভঙ্গ করা হয় ইদের দিনে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, রমজান মাস কখনও ২৯ দিন তো কখনও ৩০ দিন হয়। এরপর চাঁদ দেখে পালন নয় খুশির ইদ।
ইদ- উল- ফিতর উদযাপন
ইদের দিন সকালে মুসলমান পুরুষরা নতুন জামা- কাপড় পরে মসজিদে একত্রিত হয়ে নামাজ পড়েন। এরপরে তাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে দিনটি কাটান। একে অপরকে ইদ মোবারক জানিয়ে কোলাকুলির মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রকমারি স্বুসাদু পদ রান্না হয় সব বাড়িতেই। নাচ-গান, আড্ডা, খাওয়া -দাওয়া, সব মিলিয়ে চুটিয়ে উপভোগ করেন এই উৎসব।