
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বছরব্যাপী নানা উৎসবের মধ্যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হল ইদ-অল-আদাহ বা ইদ-উল-আযহা (Eid al Adha)। প্রতি বছর সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় এই ইদ যা, কোরবানির ইদ বা বকরি ইদ নামেও পরিচিত। এই উৎসব মূলত ত্যাগের প্রতীক।
ইদ-অল-আদাহ কবে পালন হয়?
ইসলাম ধর্মের সমস্ত উত্সব পালিত হয় সাধারণত লুনার বা চান্দ্র ক্যালেন্ডারের উপর নির্ভর করে। সৌর ক্যালেন্ডারের থেকে চান্দ্র ক্যালেন্ডার ১১ দিন ছোট। এজন্যে প্রতি বছর ইদের দিন এক হয় না। হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১২তম ও শেষ মাস অর্থাৎ ধু অল-হিজ্জা মাসের দশম দিনেই পালিত হয় ইদ-অল আদাহ।
২০২৬-এ বকরি ইদ কবে?
এবছর ভারতে ইদ-অল-আদাহ পালিত হবে ২৮ জুন, বৃহস্পতিবার।
ইসলামে বকরি ইদের গুরুত্ব কী?
আরবিক শব্দ 'আদাহ'-র অর্থ উৎসর্গ বা ত্যাগ করা। এই বিশেষ দিন আল্লাহর নামে ত্যাগ করার রীতি রয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কোরবানির প্রথা শুরু হয় হজরত ইব্রাহিমের সময়ে। কথিত আছে,পরীক্ষা করার জন্য ইসলামের রাসুল হজরত ইব্রাহিমকে, স্বপ্নযোগে তার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস কুরবানি করতে বলেন আল্লাহ। স্বপ্নে এরকম আদেশ পেয়ে ইব্রাহিম প্রথমে ১০টি উট কোরবানি দেন। পুনরায় তিনি একই স্বপ্ন দেখেন। এরপর ইব্রাহিম ১০০টি উট কোরবানি দেন। কিন্তু এর পরেও তিনি একই স্বপ্ন দেখে ভাবেন, তাঁর কাছে সেই মুহূর্তে প্রিয় পুত্র ইসমাইল ছাড়া আর কোনও প্রিয় বস্তু নেই।
এরপর ইব্রাহিম,একমাত্র পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার সময় যাতে সময় না হয়, সেই জন্য নিজের চোখ বেঁধে রাখেন তিনি। এরপর তিনি নিজের ছেলের কোরবানি দেন। কিন্তু চোখের পর্দা খোলার পর তিনি দেখতে পান, ছেলের পরিবর্তে একটি প্রাণী মৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং তাঁর ছেলে একদম ঠিক আছে। কথিত আছে, আল্লাহ হজরত ইব্রাহিমের উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর পুত্রকে জীবন দিয়েছেন। এদিন থেকেই পালন করা শুরু হয় বকরি ইদ।
কীভাবে পালন হয়?
ইসলাম ধর্মের মানুষ ইদ-অল আদাহ-র দিন আল্লাহর উদ্দেশ্যে ছাগল,গরু, উট কিংবা কোনও পশু কোরবানি দেন। আর এরপর সেই মাংস রান্না করে বেশ কয়েকদিন ধরে খাওয়া -দাওয়ার রীতি প্রচলিত। কোরবানি দেওয়া ছাড়াও এদিন সকাল থেকেই মসজিদ কিংবা বাড়িতে নামাজ পড়ে দোয়া করেন বেশীরভাগ মানুষ। অন্যান্য ইদের মতো ইদ-অল-আদাহ-তেও সিমুই, পরোটা, লাচ্ছা, মাংস ইত্যাদি রকমারি খাবার একে অপরের বাড়িতে পাঠানোর রীতি রয়েছে। আবার বাড়িতে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানান অনেকে।
যাকাত দেওয়া
ইসলাম মতে ইদ-অল আদাহ-র দিন যার যাকাত দেওয়ার সামর্থ্য আছে অর্থাৎ যার কাছে ইদের দিন সকালে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপো বা সমপরিমাণ সম্পদ বা সম পরিমাণ অর্থ আছে তার ওপর ইদ-অল আদাহ উপলক্ষে গবাদি পশু কুরবানী করা হল ফরজে আইন। এদিন থেকে শুরু করে পরবর্তী দু'দিন পশু কুরবানির জন্য নির্ধারিত। মুসাফির বা ভ্রমণকারির ওপর কোরবানি করা ফরজে আইন নয়। ইদ-অল আদাহর নামাজ শেষে কোরবানি করতে হয়। এদিনের নামাজের আগে কোরবানি করা সঠিক নয়।
কোরবানির মাংস ভাগ
সাধারণত আমাদের দেশে কোরবানি র মাংস তিন ভাগে ভাগ করার রীতি আছে। ১ ভাগ দুঃস্থদের মধ্যে, ১ ভাগ আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে এবং ১ ভাগ নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখা হয়। তবে মাংস বিতরণের কোনও সুস্পষ্ট আদেশ নেই। কারণ কোরবানির আদেশ পশু জবেহ্ হওয়ার মাধ্যমে পালন হয়ে যায়। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ দান করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে।