Advertisement

কোন কোন পশুর কুরবানি করা যায় না? ইসলামে রয়েছে কঠোর নিয়ম, জানুন

ইসলামে দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা। ভারতে ইদুল ফিতরকে সাধারণত ‘সেমাই ইদ’ বা ‘মিষ্টি ইদ’ বলা হয়, আর ইদুল আযহা পরিচিত ‘বকরি ইদ’ নামে। এই উৎসবে মুসলমানরা ইদের নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করেন।

Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 22 May 2026,
  • अपडेटेड 5:19 PM IST
  • ইসলামে দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা।
  • ভারতে ইদুল ফিতরকে সাধারণত ‘সেমাই ইদ’ বা ‘মিষ্টি ইদ’ বলা হয়, আর ইদুল আযহা পরিচিত ‘বকরি ইদ’ নামে।

ইসলামে দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা। ভারতে ইদুল ফিতরকে সাধারণত ‘সেমাই ইদ’ বা ‘মিষ্টি ইদ’ বলা হয়, আর ইদুল আযহা পরিচিত ‘বকরি ইদ’ নামে। এই উৎসবে মুসলমানরা ইদের নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করেন।

বর্তমানে বকরি ইদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও দিল্লিতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোথায় কী পশু কুরবানি করা যাবে, তা নিয়ে সরকারি নির্দেশিকাও জারি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকের প্রশ্ন, ইসলামে কুরবানি নিয়ে আসলে কী বলা আছে?

বকরি ইদ কী এবং কেন পালিত হয়?
ইদুল আযহা বা বকরি ইদ ইসলামী বর্ষপঞ্জির যুল-হিজ্জাহ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয়। মুসলমানরা এই দিনটি স্মরণ করেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের ঘটনাকে।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ইমান ও আনুগত্য পরীক্ষা করার জন্য তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানি করতে বলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে তিনি আল্লাহর আদেশে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হন। কিন্তু আল্লাহ তাঁর এই অনুগত ভক্তিকে গ্রহণ করে ইসমাইলের পরিবর্তে একটি পশু কুরবানি করার ব্যবস্থা করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই কুরবানির প্রথা শুরু।

কার ওপর কুরবানি ফরজ?
ইসলাম অনুযায়ী, কুরবানি সবার ওপর বাধ্যতামূলক নয়। এটি কেবল সেই ব্যক্তির ওপর ফরজ, যিনি আর্থিকভাবে সক্ষম, অর্থাৎ ‘সাহিবে নিসাব’।

যে ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ (যেমন সোনা, রূপা বা সমমূল্যের অর্থ) রয়েছে, তাকে সাহিবে নিসাব বলা হয়। এমন ব্যক্তি ঋণ নিয়ে বা কারও ওপর বোঝা হয়ে কুরবানি করতে বাধ্য নন।

কুরবানির শর্ত ও নিয়ম কী?
ইসলামে কুরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। পশু অবশ্যই সুস্থ ও স্বাভাবিক হতে হবে। অন্ধ, খোঁড়া, গুরুতর অসুস্থ বা অত্যন্ত দুর্বল পশু কুরবানির উপযুক্ত নয়। এছাড়া পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা বা ছুরি ধার দেওয়া ইসলামে অনুচিত বলে গণ্য হয়।

Advertisement

কোন কোন পশু কুরবানি করা যায়?
ইসলামে নির্দিষ্ট কিছু পশু কুরবানির জন্য বৈধ, ছাগল, ভেড়া, মেষশাবক, গরু, মহিষ ও উট।

ছাগল/ভেড়া: কমপক্ষে ১ বছর বয়স
গরু/মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর বয়স
উট: কমপক্ষে ৫ বছর বয়স

বড় পশু (গরু, উট, মহিষ) সাধারণত সাতজন মিলে কুরবানি করতে পারেন, কিন্তু ছোট পশু এক ব্যক্তির পক্ষেই কুরবানি হয়।

কুরবানির মাংস বণ্টনের নিয়ম
ইসলামে কুরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে
এক ভাগ দরিদ্রদের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য, এবং এক ভাগ নিজের জন্য।

এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অভাবী মানুষরাও বছরে অন্তত একবার পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ পান।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement