১ জানুয়ারি, প্রতি বছরের মতো এ বছরও সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে কল্পতরু উৎব। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির, কাশীপুর উদ্যানবাটিতে উপচে পড়া ভিড়। লম্বা লাইন শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তদের। কিন্তু কেন প্রতি বছরের প্রথম দিনটিতেই কল্পতরু উৎসব পালিত হয় জানেন?
মহাপ্রয়াণের কয়েক দিন আগে কাশীপুর উদ্যানবাটীতে এই দিনেই কল্পতরু হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। নিজের ভক্তদের সব মনোবাঞ্ছা তিনি পূরণ করেছিলেন এই দিনে। ভক্তরা সেই বিশ্বাস থেকেই ১ জানুয়ারি পালন করেন কল্পতরু উৎসব।
শ্রীরামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ ও সারদা মায়ের ভক্তরা এই বিশেষ দিনটি কল্পতরু দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন। কাশীপুর উদ্যানবাটী, দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি এবং বেলুড় মঠে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি অগণিত ভক্তের ভিড় হয়। এবারও সেই ভিড়ের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ভোর থেকেই।
বিশেষ দিনে রামকৃষ্ণদেবকে স্মরণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে নতুন বছর শুরু করেন ভক্তরা। অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটেছে দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দির, বেলুড় মঠ ও কাশীপুর উদ্যান বাটীতে। কাশীপুরে রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান, দক্ষিণেশ্বর, বেলুড়মঠ, কামারপুকুর, আদ্যাপীঠ-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে চলছে নানা অনুষ্ঠান।
নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক নোটিফিকেশন জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বি.টি রোড এবং কাশিপুর রোড ধরে উত্তরমুখী পণ্যবাহী যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
রবীন্দ্র সরণি, গ্রে স্ট্রিট, গ্যালিফ স্ট্রিট, বেলেঘাটা রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, সিআর অ্যাভিনিউ, এম জি রোড সহ মোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলছে না।
কাশিপুর রোডে খাগেন চ্যাটার্জি রোড থেকে গোপাল চ্যাটার্জি রোড পর্যন্ত ভোর ৪টে থেকে বিকেল ৪টে গাড়ি চলাচলা বন্ধ। শুধুমাত্র উদ্যানবাটি স্টিকারযুক্ত গাড়ি চলাচল করতে পারবে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে কল্পতরু হলো স্বর্গের গাছ। এই গাছের কাছে মনের ইচ্ছে প্রকাশ করলে তা পূরণ হয় বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে দেবরাজ ইন্দ্রের নন্দনকানন থেকে এই গাছ শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পত্নী সত্যভামার মন রাখতে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নিয়ে আসেন।
১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি রামকৃষ্ণদেব তাঁর ভক্তদের বলেছিলেন,'তোমাদের চৈতন্য হোক।' সেই সময় গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ শ্রীরামকৃষ্ণদেব। চিকিত্সার জন্য তাঁকে উত্তর কলকাতার কাশীপুরে একটি বাগানবাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
১ জানুয়ারি একটু সুস্থ বোধ করায় তিনি বাগানে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। সেই সময় সমাধিস্থ হয়ে সেখানে উপস্থিত সব ভক্তদের তিনি স্পর্শ করেন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই মহাপ্রয়াণ হয় তাঁর।
রামকৃষ্ণকে স্বয়ং নারায়ণের অবতার বলে মনে করতেন তাঁর ভক্তরা। এই দিনেই রামকৃষ্ণদেব তাঁর অবতার রূপ প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
রামকৃষ্ণদেব তাঁর অনুগামী নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার কি মনে হয়, আমি কে?' গিরিশচন্দ্র বলেন, 'মানবকল্যাণের জন্য মর্ত্যে অবতীর্ণ ঈশ্বরের অবতার।'জবাবে রামকৃষ্ণ পরমহংস বলেছিলেন, 'আমি আর কি বলব? তোমাদের চৈতন্য হোক।'