বসতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা। বাংলার পাশাপাশি ভিন্রাজ্য থেকেও লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নামে এই মেলায়। পৌষ সংক্রান্তি ও মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে গঙ্গাসাগর হয়ে ওঠে পুণ্যস্নান ও সাধুসন্তের মহামিলনক্ষেত্র।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ পর্যন্ত চলবে গঙ্গাসাগর মেলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কপিল মুনির আশ্রম প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করেই এই আয়োজন।
পুণ্যস্নানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পড়ছে ১৪ জানুয়ারি সকাল ৬টা ৫৮ মিনিট থেকে ১৫ জানুয়ারি সকাল ৬টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত। মকর সংক্রান্তি শুরু হবে ১৪ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে।
সোমবার সাগরদ্বীপে মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা-পরিকাঠামো পরিদর্শনের পাশাপাশি মুড়িগঙ্গার উপর চার লেনের সেতুর শিলান্যাস করেন তিনি। কর্মসূচির শেষে মুখ্যমন্ত্রী যান কপিলমুনির আশ্রমে।
পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পূর্ব রেল বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিয়ালদা ডিভিশনের দক্ষিণ শাখায় ১২৬টি অতিরিক্ত EMU লোকাল ট্রেন চালানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বিশেষ ট্রেনও চালানো হতে পারে।
পুণ্যার্থীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রথমবারের মতো প্রতিদিন ২৩ জোড়া ইএমইউ ট্রেন চালানো হবে। এর মধ্যে শিয়ালদহ–নামখানা ও শিয়ালদহ–কাকদ্বীপ রুটে ১০ জোড়া বিশেষ গঙ্গাসাগর স্পেশাল ট্রেন থাকবে।
শিয়ালদা স্টেশনের ১৫ ও ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এবং কাকদ্বীপ স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র গঙ্গাসাগর মেলার যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে গড়ে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ পুণ্যার্থী যাতায়াত করতে পারবেন। ভিড় সামলাতে ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড’ নীতি ও ওয়ান-ওয়ে ফ্লো সিস্টেম চালু করা হয়েছে। শিয়ালদা ও কাকদ্বীপ—দুই স্টেশনেই বিশেষ ম্যানেজার নিয়োগ করে গোটা প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজর রাখবে রেল প্রশাসন।
নামখানা এবং কাকদ্বীপ থেকে শিয়ালদা ও কলকাতা স্টেশনের দিকে ৫৬টি এবং উল্টোদিকে ৭০টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। শিয়ালদা থেকে নামখানার দিকে স্পেশাল ট্রেন রাত ১২:০১, ০১:২৩, ০২:৫৫, ভোর ০৬:১৫, দুপুর ০২:৪০।
কলকাতা স্টেশন নামখানার দিকে স্পেশাল ট্রেন সকাল ০৭:৩৫, ০৮:২৪ এবং রাত ০৯:৩০। নামখানা থেকে শিয়ালদার দিকে স্পেশাল ট্রেন রাত ১২:০৭, ০১:০৬, ০১:২৫, ০২:৫২, সকাল ০৯:১০, ১১:১৮ এবং সন্ধ্যা ০৬:৩৫, রাত ১০টা ১০-এ।
কাকদ্বীপ থেকে শিয়ালদার স্পেশাল ট্রেন দুপুর ২:১৬ মিনিটে। এ ছাড়াও, দিনভর আরও একাধিক ট্রেন চলবে এই রুটে। রানাঘাট-গেদে সেকশনের যাত্রীদের জন্যও সুখবর দিয়েছে রেল। এই রুটে অতিরিক্ত ৩ জোড়া (৬টি) নতুন ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে
সড়ক ও জলপথে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রায় ২,৫০০টি বাস, ৩২টি ভেসেল, ১০০টি লঞ্চ ও ২১টি জেটির মাধ্যমে পুণ্যার্থীদের পরিবহণ করা হবে। নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবেন ১২ হাজার পুলিশ কর্মী, থাকবে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, GPS ও স্যাটেলাইট নজরদারি।
স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য আশপাশের হাসপাতালগুলিতে ৫০০-র বেশি শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, আইসিইউ, অ্যাম্বুল্যান্স ও ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের অনুমান, এ বছর ৪০ লক্ষের বেশি পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে আসতে পারেন।