
প্রত্যেক বছর কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর জন্য অপেক্ষা করে থাকেন সকলে। বিশেষ করে যারা বাড়িতে গোপাল সেবা করেন। মন্দিরে নাড়ু গোপালকে সাজানো থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে ঝাঁকিয়া ও মাঝরাতে গোপালের জন্মোৎসব এই পর্বকে আরও বিশেষ করে তোলে। ২০২৬ সালের জন্মাষ্টমী আরও একটু বিশেষ হতে চলেছে। এই বছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের এক বিশেষ সংযোগ তৈরি হতে চলেছে। যা প্রায় ১৫ বছর পর দেখা যাবে। বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম এই বিশেষ সংযোগেই হয়েছিল।মথুরা-বৃন্দাবন সহ পুরো ব্রজে জন্মাষ্টমী ও তার পরের দিন নন্দোৎসব খুব জাঁক জমকের সঙ্গে পালন করা হবে। আসুন জেনে নিই জন্মাষ্টমী কবে ও কখন তার পুজোর সঠিক সময়।
কবে জন্মাষ্টমী?
পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, ভাদ্রপদ মাসে কৃষ্ণপক্ষের অশ্টমী তিথি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর রাত ২টো বেজে ২৫ মিনিটে শুরু হবে। এই তিথি ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। উদয়া তিথি ও ধার্মিক পরম্পরাকে মাথায় রেখে মথুরা-বৃন্দাবন সহ দেশের একাধিক অংশে ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালন করা হবে। এইদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব ঘিরে মন্দিরে ও ঘরে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু হবে।
জন্মাষ্টমীতে রোহিনী নক্ষত্রের বিশেষ সংযোগ
২০২৬ সালের জন্মাষ্টমীর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো রোহিণী নক্ষত্রের সংযোগ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীতে মধ্যরাতে রোহিনী নক্ষত্রের অধীনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। এবার ৪ সেপ্টেম্বর অষ্টমী তিথি রোহিনী নক্ষত্রের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। অনেক বছর জন্মাষ্টমী অষ্টমী তিথিতে পড়লেও, রোহিনী নক্ষত্রের সংযোগ তখনও পাওয়া যায়নি। তাই এই বছরের সংযোগটিকে বিশেষ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাতে পুজোর সময়
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম মধ্যরাতে হয়েছিল, তাই জন্মাষ্টমী পুজোর সময় নিশিত কালকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পঞ্জিকা অনুসারে, নিশিত পুজো ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৫৬ থেকে ৫ই সেপ্টেম্বর রাত ১২:৪১ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সময় মন্দির ও বাড়িতে নাড়ু গোপালের অভিষেক করা হয়। ছোট্ট শ্রীকৃষ্ণকে নতুন পোশাকে সাজানো হবে এবং তারপরে আরতির মাধ্যমে কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হবে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে–
অষ্টমী তিথি আরম্ভ–
বাংলা– ১৭ ভাদ্র, বৃহস্পতিবার।
ইংরেজি– ৩ সেপ্টেম্বর , বৃহস্পতিবার।
সময়– মধ্যরাত ২টো ২৭ মিনিট।
অষ্টমী তিথি শেষ–
বাংলা– ১৮ ভাদ্র, শুক্রবার।
ইংরেজি– ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার।
সময়– রাত ১২টা ১৪ মিনিট
পুজোর নিয়ম
জন্মাষ্টমীর দিন ভক্তরা খুব ভোরেই উপবাস ও পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেন। বাড়ির মন্দির সাজানো হয় এবং লাড্ডু গোপালকে বিশেষ অলঙ্কারে সজ্জিত করা হয়। রাতে দেবতাকে পঞ্চামৃত মাখানো হয় এবং নতুন পোশাক ও গয়না পরানো হয়। মধ্যরাতে ভগবান কৃষ্ণের জন্মের পর শঙ্খ ও ঘণ্টার শব্দে আরতি করা হয়। এরপর দেবতাকে মাখন ও মিছরি, পঞ্চামৃত, ফল এবং অন্যান্য সাত্ত্বিক নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়।