
বাঙালির ১২ মাসের ১৩ পার্বণের অন্যতম পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি পয়লা বৈশাখ নামে পরিচিত। বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাস থেকে নতুন বছর শুরু হলেও বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসেবে নতুন বছর শুরু হয় বৈশাখ মাস থেকে। সূর্য মেষ রাশিতে প্রবেশ করা থেকেই শুরু হয় নতুন বাংলা বছর। অর্থাত্ মেষ সংক্রান্তি বা চৈত্র সংক্রান্তির পরের দিনটি পয়লা বৈশাখ নামে পরিচিত। দেশের অন্যত্র অনেক স্থানেই এই দিনটি বৈশাখী নামে পরিচিত।
তবে নতুন বছর এলেও ইংরাজি নিউ ইয়ারের পর থেকে কততম বাংলা বছর, সেটা মনে রাখার অভ্যাস ভুলেছে বাঙালিরা। আর তাই বহু বাঙালি এই বাংলা নববর্ষে ভুলে যান ঠিক কততম বছর এটা। যদিও ইংরাজি নিউ ইয়ার খুব সহজেই মনে রাখা যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক আগামী দিন অর্থাৎ ১ বৈশাখে বাংলার নববর্ষটা কততম, ১৪৩২ না ১৪৩৩।
বাংলা সনের গণনা সূর্যসিদ্ধান্ত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। যার ফলে আন্তর্জাতিক গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারের সঙ্গে এর কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। তবে, ১৪০০ সাল থেকে বাংলা বর্ষপঞ্জি কিছুটা হলেও সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলা ক্যালেন্ডার সূর্যসিদ্ধান্ত ও ন্যাশনাল একাডেমির নিয়ম অনুযায়ী চলে। ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল, যা গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারে পয়লা বৈশাখ হিসেবে চিহ্নিত, সেই দিনটি বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৪৩২ সালের শেষ দিন নয়, বরং এটি ছিল বাংলা সন ১৪৩২ সালের পয়লা বৈশাখ, অর্থাৎ বাংলা ১৪৩২ সালের প্রথম দিন। আর বাংলা ১৪৩৩ সাল শুরু হবে ২০২৬ সালের পয়লা বৈশাখ থেকে। অর্থাৎ কাল থেকে শুরু হবে ১৪৩৩ সাল। অনেকেরই এই নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।
পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন বছরের সূচনা, নতুন আশা, আর রঙিন উৎসবের আবহ। যে আবহে রবীন্দ্রসংগীত, বাউল সংগীত, মিষ্টিমুখ, পুজোপাঠের মত বাংলা সংস্কৃতির চর্চা বুঝিয়ে দেয় যে নতুন আরেকটি বাংলা বছর চলে এসেছে, বাঙালিকে স্বাগত জানাতে।
উত্তর ও মধ্য ভারতে নতুন বছর বৈশাখী, অসমে রঙ্গালি বিহু, তামিলনাড়ুতে তামিল পুঠান্ডু, কেরালায় বিশু, ওড়িশায় বিশুব সংক্রান্তি এবং পশ্চিমবাংলায় পয়লা বৈশাখ নামে পরিচিত নববর্ষের উৎসব। বাঙালি ব্যবসায়ীরা নতুন আর্থিক বছরের সূচনা করেন এদিন লক্ষ্মী-গণেশ পুজো ও হালখাতার মাধ্যমে। খাওয়া দাওয়া, আড্ডা, মিষ্টিমুখ, নতুন জামাকাপড় পরা এই সবের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেন বাঙালিরা।