
ভগবান বুদ্ধের জন্মবার্ষিকী পালন হয় বুদ্ধ পূর্ণিমায়। বুদ্ধ একজন আধ্যাত্মিক শিক্ষক ছিলেন যার শিক্ষায় বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বৈদিক সাহিত্য অনুসারে, ভগবান বুদ্ধ হলেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার এবং তিনি এই পৃথিবীতে সমস্ত জীবের প্রতি অহিংসা ও করুণার বার্তা শেখাতেই এসেছিলেন।
হিন্দু বর্ষপঞ্জী অনুসারে, বৈশাখ মাসের পূর্ণিমায় বৌদ্ধ জয়ন্তী (পূর্ণিমা) পালিত হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে, এটি এপ্রিল বা মে মাসেই পালিত হয় সাধারণত। বুদ্ধ পূর্ণিমা ভেসক বা বুদ্ধ জয়ন্তী নামেও পরিচিত। বিশ্বজুড়ে এই বিশেষ দিন অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে পালিত হয়।
বুদ্ধ পূর্ণিমার তারিখ
এই বিশেষ দিনটি উদযাপন হবে ১ মে। তবে গৌতম বুদ্ধের জন্ম ও মৃত্যুর সময় অনিশ্চিত। ইতিহাসবীদদের মতে যুবরাজ সিদ্ধার্থ গৌতম বর্তমান নেপালের লুম্বিনিতে ৫৬৩ সাল নাগাদ জন্মেছিলেন।
বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০২৬-র তিথি
৩০ মার্চ রাত ৮/২৭ মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হবে এবং ১ মে রাত ৯/৩৭ পর্যন্ত থাকবে।
বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০২৬: স্নান ও দানের শুভ মুহূর্ত
বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন, স্নান ও অর্থদানের শুভ সময়টি ভোর ৪:১৫ মিনিটে শুরু হয়ে ৪:৫৮ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। শাস্ত্র মতে, এই সময়ের মধ্যে স্নান ও দান করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে বিবেচিত হয়। এই সময়ের পরে স্নান করাকে 'রাক্ষস স্নান' বলা হয়। তাই, এই বিশেষ দিনে শুধুমাত্র ব্রহ্ম মুহূর্তেই স্নান করার চেষ্টা করুন।
বুদ্ধ পূর্ণিমাতে উপাসনার নিয়ম
বুদ্ধ পূর্ণিমায় স্নান করা এবং অভাবীদের দান করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এদিন ভগবান বুদ্ধকে ক্ষীর বা পায়েস নিবেদন করা হয়। এরপর সেই নিবেদিত প্রসাদ বিতরণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এছাড়া, এদিন ধ্যান, শান্তি ও সেবাকাজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এই বিশেষ দিনে, ভক্তেরা বুদ্ধমন্দিরগুলিতে যান এবং ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করেন। সেই সঙ্গে এদিন দরিদ্রদের দান করার রীতিও রয়েছে। অনেক ভক্ত আবার এদিন উপবাস পালন করেন, ধ্যান করেন এবং পবিত্র শাস্ত্র পাঠ করেন। বুদ্ধ গয়াতে মহাবোধি গাছের নীচে বুদ্ধ নির্বাণ (মোক্ষ) অর্জনের সময়টিকে স্মরণেও শুভ দিনটি পালিত হয়।
কী দান করা উচিত?
বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন অভাবী ও দুস্থদের দান করলে বহুগুণ অধিক পুণ্য লাভ হয়। চাল, ডাল, আটা, লবণ, শাকসবজি ও খাদ্যসামগ্রী, বস্ত্র বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীএদিন দান করা শুভ। কোনও পবিত্র নদীতে স্নান সম্পন্ন করার পর দান করা অধিক ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়।
বৌদ্ধ শিক্ষা অনুসারে, অষ্টাঙ্গিক মার্গ কী?
১. সম্যক দৃষ্টি
২. সম্যক সঙ্কল্প
৩. সম্যক বাক্য
৪. সম্যক কর্ম
৫. সম্যক জীবিকা
৬. সম্যক প্রযত্ন
৭. সম্যক স্মৃতি
৮. সম্যক সমাধি
গৌতম বুদ্ধের পঞ্চশীল নীতি
বৌদ্ধ ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিকতা হিসাবে বুদ্ধের দেওয়া পঞ্চশীল নীতি বা ৫ উপদেশ চিরন্তন প্রাসঙ্গিক। কথিত আছে, এই পঞ্চশীল তত্ত্ব মেনে চললে জীবনের দুঃখ- দুর্দশা অনেকটা কাটিয়ে তোলা সম্ভব।
ভগবান বুদ্ধ শিখিয়েছেন:
১. জীবমাত্র হিংসা থেকে বিরত থাকা।
২. চুরি করা থেকে বিরত থাকা।
৩. ব্যাভিচারী না হওয়া বা যৌন অসদাচরণ থেকে বিরত থাকা।
৪. মিথ্যা না বলা
৫. মাদক দ্রব্য সেবন না করা।