
আচার্য চাণক্যকে ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্বান অর্থনীতিবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। সম্পদ বিষয়ে তিনি এমন অনেক উক্তি করেছেন যা আজও মানুষকে পথ দেখায়। চাণক্য নীতিতে বলা হয়েছে, সম্পদ সঞ্চয় করা একটি গুরুতর ভুল। কেবল সম্পদ সঞ্চয় করলে অবশেষে তার মূল্য ও গুরুত্ব উভয়ই হ্রাস পায়। চাণক্য নীতিতে এই বিষয়ে একটি শ্লোকও রয়েছে।
চাণক্যের সংস্কৃত স্লোকের অর্থ হল-
যেমন সর্বদা প্রবাহিত ও বণ্টিত জলের ধারাকে সঞ্চয় করা ভালো নয়, তেমনি সঞ্চিত সম্পদ সঠিক সময়ে ব্যয় বা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
কেন একথা বলেন চাণক্য?
প্রকৃতপক্ষে, এই শ্লোকের মাধ্যমে চাণক্য বিশ্বকে এই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে সম্পদ প্রকৃতিগতভাবে পরিবর্তনশীল। তিনি বিশ্বাস করতেন, টাকা সিন্দুক বা লকারে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে, এটি সঠিক স্থানে ব্যবহার করা অপরিহার্য। যদি এই ধরনের সম্পদ কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কারও কাজে না আসে, তবে সেই সম্পদের মূল্য কী? অতএব, অর্থ সঠিক স্থানে ব্যবহার ও বিনিয়োগ করা সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ।
অবশ্যই দান, ভোগ এবং বিনিয়োগ করতে হবে
চাণক্য নীতিতে আরও একটি শ্লোকের উল্লেখ আছে। শ্লোকটি হলো – দাত্বামেব ভোক্ত্যাঁ বিত্তং নৈবোপশ্চয়ম্। পশ্য মধুকারিকোষ সঞ্চিতং নৈব তিষ্ঠতি... এই শ্লোকের মাধ্যমে চাণক্য বলেছেন, একজন ব্যক্তির সঠিক স্থানে অর্থ দান করা উচিত। যারা দরিদ্র ও অভাবী মানুষকে আর্থিক সাহায্য করেন, ঈশ্বর সর্বদা তাঁদের আশীর্বাদ করেন। অতএব, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সময়ে সময়ে দান করে যাওয়া উচিত।
চাণক্য আরও বলেন, ব্যক্তিগত ভোগের জন্য জমানো অর্থও দান করা উচিত। যদি অর্থ সঠিক সময়ে ব্যবহার না করেন, তবে মৌমাছির মতো হয়ে যাবেন। একটি মৌমাছি তার মধু সংগ্রহের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অন্য কেউ তার সুফল ভোগ করে। একইভাবে, সঞ্চয় করা বা জমিয়ে রাখা সম্পদও একদিন অন্য কারও হাতে চলে যাবে। তা অকেজো হয়ে পড়বে।