
Chanakya Niti For Success: আচার্য চাণক্যের প্রাচীন নীতি দর্পণ আজও সমাজ জীবনে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, আমাদের সনাতন সংস্কৃতিতে পরোপকারকে পরম ধর্ম মনে করা হলেও মহান কুটনীতিক চাণক্য কিন্তু একটু ভিন্ন কথাই বলেছেন, তাঁর মতে বিচার বিবেচনা না করে যত্রতত্র সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে হিতের বিপরীত হতে পারে, নিজের অজান্তেই আপনি ডেকে আনতে পারেন চরম বিপদ, চাণক্য নীতি অনুসারে সমাজে এমন পাঁচ ধরনের মানুষ রয়েছেন যাদের উপকার করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারা, এদের থেকে সবসময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ,
প্রথমত মূর্খ মানুষকে কোনওদিন জ্ঞান দিতে যাবেন না বা তাদের কোনো বিপদে সাহায্য করতে যাবেন না, যে নিজের অজ্ঞতা নিয়ে অহংকার করে এবং সত্যকে স্বীকার করতে চায় না তাকে বোঝানো আর নিজের মূল্যবান শক্তি অপচয় করা একই ব্যাপার, এরা আপনার ভালো কথা তো শুনবেই না উল্টে নিজেদের জেদের বশে আপনাকে সমাজ ও দশের সামনে ভুল প্রমাণিত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না,
দ্বিতীয়ত কুটিল ও দুষ্ট স্বভাবের মানুষের উপকার করা আর বিষধর সাপের মুখে দুধ ঢালা সমান কথা, এই সমস্ত স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের আখের গোছাতে যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, চাণক্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে যে এরা সাহায্য পাওয়ার পর প্রথম আঘাতটি তাদের উপকারীর ওপরেই করে থাকে, এদের কুসঙ্গে আপনার নিজের সামাজিক সম্মান তো নষ্ট হবেই উপরন্তু আপনি কোনো বড় আইনি বা সামাজিক গোলমালে ফেঁসে যেতে পারেন,
তৃতীয়ত যারা অনৈতিক বা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের কোনোভাবেই কোনও প্রকার সাহায্য করবেন না, কোনো অপরাধী বা মাদকাসক্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে তাদের করা অন্যায়কে পরোক্ষভাবে সমর্থন জোগানো, এমন মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ালে আপনিও তাদের পাপের ভাগীদার হয়ে উঠবেন এবং সমাজ আপনাকেও অপরাধীর চোখেই দেখবে,
চতুর্থত সব সময় নেতিবাচক মানসিকতা সম্পন্ন বা যারা সব কিছুতেই অসন্তুষ্ট থাকে এমন মানুষদের থেকে দূরে থাকুন, চাণক্যের মতে কিছু মানুষ আছেন যারা নিজেদের ভাগ্যের দোহাই দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা দুঃখবিলাস করতে ভালোবাসেন, এদের আপনি যতই সাহায্য করুন না কেন এদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হবে না, উল্টে এদের সংস্পর্শে থাকলে আপনার নিজের পজিটিভ এনার্জি নষ্ট হবে এবং আপনিও মানসিক অবসাদের শিকার হবেন,
পঞ্চমত অলস ও কর্মবিমুখ মানুষের উপকার করা বন্ধ করুন, যে ব্যক্তি নিজের ভালো মন্দের তোয়াক্কা না করে অলসতার চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে ভালোবাসে তাকে সাহায্য করার অর্থ তার অলসতাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া, এই ধরনের পরজীবী মানুষ অন্যের ওপর ভরসা করেই জীবন কাটিয়ে দিতে চায় এবং এদের সাহায্য করলে আপনার নিজের পরিশ্রমের ধন সম্পূর্ণ বৃথা যাবে, তাই চাণক্যের অমর বাণী মাথায় রেখে জীবনের পথে পা বাড়ানোই শ্রেয়।