
ধনতেরাস মানেই ঘরে ঘরে সোনা কেনার ধুম। মূলত উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে এই রীতি প্রচলিত থাকলেও আজকাল বাঙালিদের মধ্যেও ধনতেরাস পালনের হিড়িক লেগে থাকে। কেউ সোনা, কেউ রুপো, কেউ অন্য কোনও ধাতু তো কেউ আবার নিদেনপক্ষে ঘরের ঝাঁটা কিনে থাকেন এই দিনে। কিন্তু জানেন কি ধনতেরাসের সঙ্গে সোনা কেনার কোনও সম্পর্কই নেই। অবাক হলেও এটাই সত্যি। তাহলে কেন পালন করা হয় ধনতেরাস?
পুরাণ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দেশে যত কবিরাজ, বৈদ্য, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা ছিলেন তাঁরা ধনতেরাসের দিন ধন্বন্তরীকে পুজো করেন। পরের দিন করেন যমের পুজো। যম হচ্ছেন মৃত্যু অর্থাৎ নেতিবাচক প্রতীক। তাঁকে যেদিন পুজো করা হচ্ছে তার আগে ইতিবাচক প্রতীক কারও পুজোও করা হয়। যমের থেকে আমাদের যিনি দূরে নিয়ে যাবেন, তিনি হলেন চিকিৎসক। তাই ধন্বন্তরীর পুজো করা হয়। আর তাই ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী বা ধনতেরাস হল পৌরাণিক যুগের ডক্টর্স ডে। এর সঙ্গে সোনা কেনার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং ধনতেরাসের সঙ্গে বাঙালিদের ১৪ শাক খাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।
ধনতেরাস আসলে চিকিৎসক ধন্বন্তরীকে স্মরণ করে পালিত হয়। এই দিনটিকে বলা হয় ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী। বড় বৈদ্য ছিলেন উনি। ওঁকে স্মরণ করে ত্রয়োদশীতে শাক খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু যেহেতু রাতের পর কেউ শাক খায় না পরের দিন দুপুরে তা খাওয়া হয়। বাড়ি বাড়ি মা-ঠাকুমারা তাই ভূত চতুর্দশীর দিন ১৪ শাক রান্না করেন।