
দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিনই বাকি। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরবে, সেই আনন্দে মত্ত বঙ্গবাসী। কুমরোটুলিতে বেড়েছে ব্যস্ততা, পাড়ায় পাড়ায় চলছে প্যান্ডেলের কাজ। পুজো শপিংও শুরু হয়ে গেছে। কারণ আর একমাসও বাকি নেই পুজো আসতে। আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী। তার আগে মহালয়া বা সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালিত হবে ১০ অক্টোবর শনিবার। সে দিন থেকেই দেবীপক্ষের শুরু। প্রতিবছরই মা দুর্গার আগমন ও গমন কিসে, তা নিয়ে কৌতুহল থাকে তুঙ্গে। আসুন জেনে নিই তাহলে মা দুর্গার আগম ও গমন কিসে এবং তার প্রভাব কী।
দুর্গার আসা-যাওয়ার বাহন
দুর্গার মর্ত্যে আগমন ও প্রস্থানের বাহন ও তার ফলাফল নিয়ে বাঙালি সমাজে বহু কথা প্রচলিত আছে। দেবী দুর্গা ও তাঁর পুত্র-কন্যার নিজস্ব বাহন থাকলেও আগমন ও প্রস্থানের বাহনের কথা আলাদা করে পঞ্জিকায় উল্লেখ করা থাকে। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, দুর্গার আগমন ও প্রস্থানের বাহন নির্ধারণ করে মর্তলোকে সারা বছর কেমন কাটবে। প্রতি বছর দুর্গার আগমন ও প্রস্থান সাধারণত একই বাহনে হয় না। যদি কোনও বছর হয়‚ তবে তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। এই বছর দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় এবং প্রত্যাবর্তন হবে নৌকায়। জেনে নিন এর কী প্রভাব পড়বে।
দুর্গার আগমন ও গমনের হিসেব
পঞ্জিকা অনুসারে পুজোর সপ্তমীতে দেবীর আগমন হয়, আর গমন হয় দশমীতে। এই দুই দিন সপ্তাহের কোন কোন বারে পড়ছে, তার উপরেই নির্ভর করে দেবীর কীসে আগমন ও কীসে গমন। শাস্ত্র অনুযায়ী সপ্তমী রবি বা সোমবার হলে দেবীর বাহন হবে গজ বা হাতি। সপ্তমী শনি বা মঙ্গলবার হলে দেবীর বাহন ঘোটক বা ঘোড়া। সপ্তমী বৃহস্পতি বা শুক্রবার হলে দেবীর বাহন দোলা বা পালকি। সপ্তমী বুধবার হলে দেবীর বাহন নৌকা। একই ভাবে, দশমী রবি বা সোমবার হলে দেবীর বাহন গজ। দশমী শনি বা মঙ্গলবার হলে দেবী বিদায় নেবেন ঘোড়ায় চড়ে। দশমী বৃহস্পতি বা শুক্রবার হলে দেবীর গমন হবে দোলা বা পালকিতে। আর দশমী বুধবার হলে নৌকা করে কৈলাসে ফিরবেন দেবী।
এ বছর দেবীর আগমন কীসে?
২০২৬-এ ২ দিন ধরে পালিত হবে সপ্তমী। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ২০২৬ শনি ও রবিবার মিলিয়ে সপ্তমী থাকবে। তবে শাস্ত্রমতে প্রথম সপ্তমী, অর্থাৎ ১৭ অক্টোবর শনিবার দেবীর আগমনের দিন হিসেবে ধরা হবে। সেই কারণে শাস্ত্রমতে এই বছর দেবীর আগমন হবে ঘোড়ায়। আবার বিজয়া দশমী পালিত হবে ২১ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার। সেই হিসেবে দেবীর ফিরে যাওয়া নৌকায়।
দেবীর বাহনের তাৎপর্য
দুর্গা যদি ঘোড়ায় চড়ে আসেন বা বিদায় নেন তবে তার ফল “ছত্র ভঙ্গ স্তুরঙ্গমে”। অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে রাজায়-রাজায় বা রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে যুদ্ধ সূচিত হয়। সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে ধ্বংস ও অস্থিরতা বিরাজ করে। এক কথায় ‘ছত্রভঙ্গম’। দেবীর আসা বা যাওয়া যদি নৌকায় হয়, তার ফল “শস্য বুদ্ধিস্তথাজলম”। অর্থাৎ প্রবল বন্যা ও খরা দেখা যায়। নৌকায় মনোকামনা পূর্ণ হওয়া সূচিত হয়। ধরিত্রী হয়ে ওঠে শস্য শ্যামলা। কিন্তু সেই সঙ্গে অতি বর্ষণ বা প্লাবনের আশঙ্কাও দেখা যায়।
দুর্গাপুজোর শুরু
১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী
১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী
১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী
২০ অক্টোবর মহানবমী
২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী