
ঘরের ভেতরের কিছু সাধারণ বস্তুও ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভাঙা আয়না, বন্ধ ঘড়ি, জীর্ণ বা পুরনো জুতো, নোংরা বা খোলা ডাস্টবিন এবং মরা গাছপালা—এমন সব জিনিস বাস্তুগত ত্রুটির কারণ হতে পারে। মনে করা হয় যে, এই বস্তুগুলো মানসিক চাপ, আর্থিক সমস্যা, স্থবিরতা এবং নেতিবাচকতা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই, ঘরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত বস্তুগুলো সরিয়ে ফেলা এবং নিয়মিত গাছপালার যত্ন নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
বাস্তুশাস্ত্রে ঘরের ভেতর শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে, ঘরের নির্দিষ্ট কিছু বস্তু ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে। আবার অন্য কিছু বস্তুর নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। আমরা প্রায়শই আমাদের রোজকার জীবনে ব্যবহৃত বস্তুগুলোকে উপেক্ষা করি; অথচ এই বস্তুগুলোই ধীরে ধীরে বাস্তুগত ত্রুটির সৃষ্টি করতে পারে।
১. ভাঙা আয়না বা ফাটল ধরা কাঁচ
বাস্তুশাস্ত্র মতে, ঘরে ভাঙা আয়না বা ফাটল ধরা কাঁচ রাখা অশুভ বলে মনে করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, এটি নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি করে এবং মানসিক চাপের সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই ভাঙা আয়না পরিবর্তন না করে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করতে থাকেন, যা বাস্তুশাস্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেও উপযুক্ত বলে বিবেচিত নয়।
২. ভাঙা বা অচল ঘড়ি
ঘড়ি কেবল সময় দেখার একটি মাধ্যমই নয়, বরং এটি জীবনের গতি ও অগ্রগতিরও প্রতীক। বাস্তুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘরে ভাঙা বা অচল ঘড়ি রাখা স্থবিরতা এবং বাধার ইঙ্গিত বহন করে। তাই, ইতিবাচক শক্তি বজায় রাখার স্বার্থে এধরনের ঘড়িগুলো অবিলম্বে মেরামত করা অথবা ঘর থেকে সরিয়ে ফেলা উচিত।
৩. জীর্ণ ও পুরনো জুতো এবং চটি
পুরনো, ভাঙা বা ব্যবহারের অযোগ্য জুতো ও চটি যদি ঘরের কোনও এক কোণে দীর্ঘকাল ধরে ফেলে রাখা হয়, তবে বাস্তুশাস্ত্রে তাকেও অশুভ বলে গণ্য করা হয়। মনে করা হয় যে, এ ধরনের বস্তু নেতিবাচকতাকে প্রশ্রয় দেয় এবং আর্থিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই, ঘরে অব্যবহৃত জুতো যথাসময়ে সরিয়ে ফেলাই সর্বোত্তম বলে বিবেচিত হয়।
৪. খোলা এবং নোংরা ডাস্টবিন
বাস্তুশাস্ত্রে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘরে নোংরা বা খোলা ডাস্টবিন কেবল একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই সৃষ্টি করে না, বরং এটি নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে বলেও বিশ্বাস করা হয়। পরামর্শ দেওয়া হয় যে, ডাস্টবিন সর্বদা ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত—বিশেষ করে যদি সেটি রান্নাঘর বা মূল দরজার কাছাকাছি অবস্থিত হয়।
৫. শুকিয়ে যাওয়া ও নেতিয়ে পড়া গাছপালা
বাড়ির পরিবেশে সজীব গাছপালাকে ইতিবাচকতা ও সতেজতার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, গাছপালা যখন শুকিয়ে যায় কিংবা নেতিয়ে পড়ে, তখন সেগুলোকে বাড়ির ভেতরে রাখা অশুভ বলে মনে করা হয়। বাস্তুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, এ ধরনের গাছপালা জীবনে স্থবিরতা ও নেতিবাচকতার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তাই, গাছপালার নিয়মিত যত্ন নিন এবং যখনই সেগুলো শুকিয়ে যাবে, তখনই সেগুলোকে সরিয়ে ফেলুন।
(Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য সাধারণ অনুমান এবং তথ্যের উপর ভিত্তি করে। আজতক বাংলা এটি নিশ্চিত করে না।)