Advertisement

Kaushiki Amavasya 2026 Tithi: কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হচ্ছে কখন, থাকবে কতক্ষণ? জেনে নিন সময়কাল

ভাদ্র মাসের অমাবস্যা কৌশিকী অমাবস্যা হিসাবে প্রসিদ্ধ। এই অমাবস্যাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন মান্যতাও রয়েছে। বলা হয়, কৌশিকী অমাবস্যায় পুজো দিলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। এবার এই অমাবস্যার তিথি কখন শুরু হচ্ছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক পঞ্জিকা কী বলছে।

এ বছর কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথি কবে? এ বছর কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথি কবে?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 09 Sep 2026,
  • अपडेटेड 1:11 PM IST

 ভাদ্র মাসের  অমাবস্যা কৌশিকী অমাবস্যা হিসাবে প্রসিদ্ধ। এই অমাবস্যাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন মান্যতাও রয়েছে। বলা হয়,  কৌশিকী অমাবস্যায় পুজো দিলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। এবার এই অমাবস্যার তিথি কখন শুরু হচ্ছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক পঞ্জিকা কী বলছে।

কৌশিকী অমাবস্যার তিথি
 এবার কৌশিকী অমাবস্যাপালিত হবে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ওই দিন সকাল ১০টা ১১ মিনিটে এবং শেষ হবে পরের দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। তাই উদয়া তিথি হিসাবে ধরলে, ১০ সেপ্টেম্বরই কৌশিকী অমাবস্যার প্রধান দিন হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলত, কৌশিকী অমাবস্যা হবে বৃহস্পতিবার। তাই মূল পুজো ও ধর্মীয় আচার পালনের প্রধান দিন হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বরকেই ধরা হচ্ছে। 

কেন বিশেষ এই অমাবস্যা?
 ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথি স্নান, দান ও পিতৃতর্পণের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলেও পশ্চিমবঙ্গে এই বিশেষ রাতের রয়েছে আলাদা মাহাত্ম্য। বিশেষ করে তারাপীঠে এই অমাবস্যা পরিচিত কৌশিকী অমাবস্যা বা ‘তারা রাত্রি’ নামে। এই উপলক্ষে মা তারার দর্শনের জন্য মন্দিরে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত। পাশাপাশি সাধকরা সারারাত মন্ত্রজপ, ধ্যান ও বিশেষ সাধনায় মগ্ন থাকেন।  ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অমাবস্যার এই রাতে মা তারার আরাধনা করলে ভয়, সংকট ও নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি লাভ করা যায়। কৌশিকী অমাবস্যার রাতে তারাপীঠ মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ পুজো, আরতি এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা মা তারার দর্শনের জন্য সেখানে ভিড় করেন। রাতভর চলতে থাকে বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম।

পৌরাণিক কাহিনী বলে, একটা সময় শুম্ভ, নিশুম্ভের দাপটে অত্যিষ্ট হয়ে ওঠেন মানুষ। ব্রহ্মার বরে শুম্ভ ও নিশুম্ভ কেবল কোনো অযোনিসম্ভূতা নারীর (যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি) হাতেই বধ হতে পারত। সেই বর অনুসারে, মানস সরোবরে মহাদেবী স্নানের পর তাঁর গাত্রবর্ণ পরিত্যাগ করেন। তপস্যার পর স্নান করতেই দেবীর গায়ের সমস্ত কালো কোষ  ঝরে যায় এবং তিনি দীপ্তিময়ী রূপ ধারণ করেন। কোষ ঝরে পড়ার ফলে তিনি অযোনিসম্ভূতা নারী হন। অন্যদিকে, এর আগে, তাঁর কোষের কৃষ্ণ বর্ণের কারণে, মহাদেব তাঁকে কালিকা বলে সম্বোধন করতেন। কোষ ঝরে যেতেই দেবী কৌশিকী রূপ ধারণ করলেন। যেহেতু তাঁর জন্ম কোনA মাতৃগর্ভ থেকে হয়নি, তাই ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যা তিথিতে তিনিই মহাশক্তিশালী শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করে ত্রিলোক রক্ষা করেন। সেই থেকেই এই অমাবস্যা তিথিকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে কৌশিকী অমাবস্যা হিসাবে পালন করা হয়। এদিকে, তারাপীঠ মহাশ্মশানে কৌশিকী অমাবস্যার কাহিনী মূলত মহাসাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের সঙ্গে জড়িত। ফলত, এই তিথি অনুসারে তারাপীঠে ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয় প্রতিবছর।

Advertisement

এই দিনে  ভক্তরা কী করেন?
কৌশিকী অমাবস্যায় ভক্তরা সাধারণত মা তারার পুজো করেন। প্রদীপ জ্বালিয়ে মন্ত্রজপ ও নামস্মরণ করা হয়। অনেকে অসহায় মানুষদের খাবার ও বস্ত্র দান করেন। পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ, ধ্যান এবং আধ্যাত্মিক সাধনাও এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক ভক্ত এদিন জীবনের নেতিবাচক অভ্যাস ও চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার সংকল্পও গ্রহণ করেন। তবে তন্ত্রসাধনার মতো বিশেষ আচার যথাযথ গুরু বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির নির্দেশ ছাড়া করা উচিত নয়। সাধারণ ভক্তরা বাড়িতেই নিয়ম মেনে সহজভাবে মা তারা বা মা কালীর পুজো, দীপদান ও নামস্মরণ করতে পারেন।

বাড়িতে কীভাবে করবেন কৌশিকী অমাবস্যার পুজো?
সন্ধ্যায় স্নান সেরে পুজোর স্থান পরিষ্কার করে মা তারা বা মা কালীর ছবি বা মূর্তির সামনে প্রদীপ জ্বালান। এরপর লাল ফুল, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করে নিজের পারিবারিক রীতি অনুযায়ী মন্ত্রজপ বা নামস্মরণ করুন। পুজোয় বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে একাগ্রতা ও ভক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সবশেষে পরিবারের সুখ, শান্তি, মঙ্গল এবং সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষার জন্য মা তারার কাছে প্রার্থনা করতে পারেন।

Read more!
Advertisement
Advertisement