Advertisement

Kitchen Vastu Tips: এক ভুলে ঘরের ভাণ্ডার খালি করে দিতে পারে, ঘরের কোন দিকে রান্নাঘর থাকা জরুরি?

রান্নাঘরের সঠিক অবস্থান যেমন ঘরে সুখ সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসে ঠিক তেমনই ভুল দিকে রান্নাঘর তৈরি করলে পরিবারে নানা অশান্তি ও রোগব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে। সেই কারণে ঘর তৈরির সময় বা ফ্ল্যাট কেনার আগে রান্নাঘরের দিকটি সঠিকভাবে নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।

Kitchen Vastu Tips: এক ভুলে ঘরের ভাণ্ডার খালি করে দিতে পারে, ঘরের কোন দিকে রান্নাঘর থাকা জরুরি?Kitchen Vastu Tips: এক ভুলে ঘরের ভাণ্ডার খালি করে দিতে পারে, ঘরের কোন দিকে রান্নাঘর থাকা জরুরি?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Jul 2026,
  • अपडेटेड 11:17 PM IST

Kitchen Vastu Tips For South East Direction: বাস্তুশাস্ত্রে দিকনির্দেশের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ প্রতিটি দিক নির্দিষ্ট কিছু শক্তির সঙ্গে যুক্ত থাকে। আমাদের বাড়িগুলির মধ্যে রান্নাঘর কেবল অন্ন প্রস্তুত করার জায়গা নয় বরং এটি হলো পুরো পরিবারের স্বাস্থ্য এবং ইতিবাচক শক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু। রান্নাঘরের সঠিক অবস্থান যেমন ঘরে সুখ সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসে ঠিক তেমনই ভুল দিকে রান্নাঘর তৈরি করলে পরিবারে নানা অশান্তি ও রোগব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে। সেই কারণে ঘর তৈরির সময় বা ফ্ল্যাট কেনার আগে রান্নাঘরের দিকটি সঠিকভাবে নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে একটি আদেশ বাড়ির জন্য রান্নাঘর তৈরির সর্বোত্তম দিক হলো দক্ষিণ পূর্ব দিক যা শাস্ত্রীয় ভাষায় অগ্নিকোণ নামে পরিচিত। যেহেতু এই কোণের অধিপতি স্বয়ং অগ্নিদেব তাই রান্না করার জন্য এই দিকটিকে সবচেয়ে শুভ এবং ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। অগ্নিকোণে রান্নাঘর থাকলে তা বাড়ির ভেতরের ইতিবাচক শক্তির প্রবাহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই সঠিক মেলবন্ধনের ফলে রান্নার গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং খাবারের মাধ্যমে সেই শুভ শক্তি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের শরীরে প্রবেশ করে।

আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ধনসম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও দক্ষিণ পূর্ব দিকের রান্নাঘর এক ম্যাজিকের মতো কাজ করে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী অগ্নিকোণে রান্নাঘর থাকলে তা ঘরের অর্থনৈতিক অবস্থাকে মজবুত করতে এবং উপার্জনের নতুন নতুন পথ খুলে দিতে সাহায্য করে। এর ফলে পরিবারে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের এক চমৎকার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং লগ্নিকারীদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্র থেকেও ভালো লাভ আসে। অনাবশ্যক খরচ কমে যাওয়ার কারণে সঞ্চয়ের পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে কে না চায় আর তার জন্য রান্নাঘরের বাস্তু ঠিক রাখা ভীষণ প্রয়োজন। অগ্নিকোণ যেহেতু অগ্নি উপাদানের দ্বারা পরিচালিত হয় তাই এই দিকে তৈরি করা খাবার মানুষের পরিপাকতন্ত্র এবং মেটাবলিজমকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই রান্নাঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খেলে পরিবারের সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং বড়সড় কোনও শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বাড়ির লোকেদের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রাণশক্তি এবং কাজের প্রতি উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

Advertisement

পারিবারিক সুখ শান্তি এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই বিশেষ দিকটির অবদান অনস্বীকার্য। ভুল দিকে রান্নাঘর থাকলে সদস্যদের মধ্যে অকারণ অহংকার ও খিটখানি মেজাজ তৈরি হতে পারে যা পারিবারিক কলহের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে দক্ষিণ পূর্ব দিকে রান্নাঘর থাকলে তা বাড়ির পরিবেশকে শান্ত ও মনোরম রাখে যার ফলে ভাই বোনেদের মধ্যে বা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অকারণ মতভেদ বা ঝগড়াঝাঁটি হ্রাস পায়। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং মানসিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হয়।

তবে অগ্নিকোণে রান্নাঘর বানানোর সময় বেশ কিছু জরুরি নিয়মের দিকেও আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন রান্নার গ্যাস বা উনুনটি রান্নাঘরের ঠিক দক্ষিণ পূর্ব কোণেই বসানো থাকে এবং রান্না করার সময় গৃহিণীর মুখ যেন সবসময় পূর্ব দিকে থাকে। অগ্নি এবং জল যেহেতু বিপরীত মেরুর উপাদান তাই গ্যাস স্টোভ এবং জলের সিঙ্কের মধ্যে যেন কিছুটা দূরত্ব বজায় থাকে। রান্নাঘরের দেওয়ালে কালচে বা গাঢ় নীল রঙের পরিবর্তে হালকা লাল, কমলা বা হলুদ রঙের ব্যবহার করলে অগ্নির শক্তি আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সবশেষে বলা যায় যে বাস্তুর এই ছোট ছোট নিয়মগুলি মেনে চললে জীবনের অনেক বড় বড় সমস্যা থেকে অনায়াসে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রান্নাঘরটি সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিসপত্র মুক্ত রাখলে শুভ শক্তির আদানপ্রদান আরও মসৃণ হয়। চাইলে রান্নাঘরে ওম বা স্বস্তিকের মতো কিছু পবিত্র চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে যা ঘরের চারপাশের নেতিবাচকতাকে দূর করতে সাহায্য করে। এই সামান্য কিছু পরিবর্তন আপনার গোটা সংসারের ভোল বদলে দিয়ে সুখ, শান্তি এবং চিরস্থায়ী সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement