
বাঙালির দুর্গাপুজোর সূচনাই হয় মহালয়া দিয়ে। এদিন ভোরবেলা রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে চণ্ডীপাঠ আর 'বাজলো তোমার আলোর বেণু' শুনতে শুনতে ভোরবেলা চায়ের কাপে চুমুক দেন না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। এদিন গঙ্গার ঘাটে ঘাটেও ভিড় জমান সবাই পিতৃপুরুষের তর্পণের জন্য। আসুন জেনে নিন।
মহালয়া কবে?
২০২৬ সালের মহালয়া পড়ছে ১০ অক্টোবর, শনিবার। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এটি ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। এই দিনে অমাবস্যা তিথি থাকে, যা হিন্দু মতে শ্রাদ্ধ ও তর্পণের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়।
কখন তর্পণ করবেন?
এদিন সর্বপিতৃ অমাবস্যা। যা ৯ অক্টোবর, ২০২৬, রাত ৯টা ৩৫ মিনিট থেকেই অমাবস্যা শুরু হয়ে যাবে, যা শেষ হবে ১০ অক্টোবর, ২০২৬, রাত ৯টা ১৯ মিনিটে। যদিও মহালয়ার ভোররাত থেকেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে তর্পণের জন্য ভিড় বাড়তে থাকে। ১০ অক্টোবর কুতুপ মুহূর্ত শুরু সকাল ১১.৪৫ থেকে দুপুর ১২টা ৩১ পর্যন্ত আর রোহিণী মুহূর্ত থাকবে দুপুর ১২.৩১ থেকে দুপুর ০১.১৮ মিনিট পর্যন্ত।
২০২৬-এ মহালয়ার দিন তর্পণের সেরা সময়
সকাল ১১:২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১:৫৬ মিনিট পর্যন্ত (অপরাহ্ন ও কুতুপ কাল তর্পণের জন্য সবচেয়ে শুভ)।
মহালয়ার তাৎপর্য
মহালয়া শব্দের অর্থ ‘মহান আলয়’ বা ‘মহান আশ্রয়’। হিন্দু পুরাণ মতে, এদিন দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে পিতৃগৃহে আগমন করেন। তাই মহালয়া মানেই মায়ের আগমন। পাশাপাশি এদিন পিতৃপক্ষ শেষ হয়। যাঁরা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন, তাঁরা মহালয়ার দিন সকালেই সেটা সেরে নেন। ১১ অক্টোবর থেকে মাতৃপক্ষের শুরু হয়ে যাবে। মহালয়ার দিন মা দুর্গার চক্ষুদানের রীতিও রয়েছে।
মহালয়ার দিন কী কী করবেন না
আমিষ খাবার খাবেন না— এদিন নিরামিষ খাওয়াই রীতি
বড় কোনও কেনাকাটা করবেন না— এটা পিতৃপক্ষের শেষ দিন, শুভকাজ নিষিদ্ধ
কারও সঙ্গে ঝগড়া করবেন না— এদিন মনে শান্তি বজায় রাখুন
চুল কাটবেন না বা নখ কাটবেন না— এদিন শরীর নিয়ে অশুভ কাজ এড়িয়ে চলুন