
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হচ্ছে অমাবস্যা। বাংলায় ভাদ্রপদ অমাবস্যা নাম হলেও, উত্তর ভারতে এই দিনটি আবার পরিচিত পিঠোরি অমাবস্যা হিসেবে। আবার এই দিনকে কৌশিকী অমাবস্যাও বলা হয়। ভাদ্রপদ মাসের অমাবস্যা বা কৌশিকী অমাবস্যা সনাতন ধর্মে বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। এই দিনটি যেমন সন্তানদের লম্বা জীবন ও সুখের জন্য মায়েরা উপবাস করে থাকেন। এছাড়াও, এই দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ, পিণ্ডদান ক্ষেত্রেও অত্যন্ত ফলপ্রসূ হিসেবে মনে করা হয়।
বলা হয়, এই পিঠোরি অমাবস্যার দিনে একটি ছোট ভুল হলেও তা পূর্বপুরুষদের ক্রুদ্ধ করতে পারে, যার ফলে আপনার ঘরে পিতৃ দোষের আবির্ভাব ঘটতে পারে। তাই, আগামীকাল পিঠোরি অমাবস্যার এই শুভ দিনে কিছু বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বাসি আটার ব্যবহার না করা ও না খাওয়া
এই দিনে বাসি বা ফ্রিজে রাখা মাখা মণ্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বাসি আটা রাহু ও কেতুর অশুভ প্রভাব বৃদ্ধি করে এবং একে 'পিণ্ড' (এক প্রকার নৈবেদ্য)-এর সমতুল্য বলে মনে করা হয়, যা পূর্বপুরুষদের ক্রুদ্ধ করে।
পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা না করা এবং সময়ের নিয়ম উপেক্ষা করা:
পূর্বপুরুষদের নামে প্রার্থনা বা দান শুধুমাত্র অপরাহ্নে (কুটুপ কাল) করা উচিত। খুব ভোরে প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। পূর্বপুরুষদের নামে প্রার্থনা করার সময় বা প্রদীপ জ্বালানোর সময় সর্বদা দক্ষিণ দিকে মুখ করা উচিত, কারণ এই দিকটি পূর্বপুরুষদের দিক বলে মনে করা হয়।
দরজায় আসা অতিথি, পশু বা পাখিকে অসম্মান করা:
এই দিনে বাড়িতে তৈরি প্রথম খাবারটি কেবল মানুষের জন্য নয়। যদি আপনি গরু, কাক, কুকুর, দেবতা এবং পিঁপড়েদের (পঞ্চবলী) জন্য খাবারের একটি অংশ আলাদা করে রাখা উচিত। । এছাড়াও, এই দিনে যদি কোনও দরিদ্র ব্যক্তি, ভিক্ষুক, বা কোনও পশু বা পাখি আপনার দরজায় আসে, তবে অবশ্যই তাদের খাবার বা জল দেবেন। তাদের অপমান করলে সরাসরি পিতৃ দোষ হয়।
তুলসী পাতা ছেঁড়া এবং কুশ ঘাস উপড়ানোর নিয়মাবলী:
অমাবস্যার দিনে তুলসী পাতা ছেঁড়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পুজোর জন্য একদিন আগে তুলসী পাতা ছিঁড়ে রাখুন। যদি আপনি সারা বছর ধরে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের জন্য কুশ ঘাস সংগ্রহ করেন, তবে মন্ত্র উচ্চারণ না করে বা লোহার সরঞ্জাম ব্যবহার না করে কুশ ঘাস উপড়াবেন না।