
ভক্তদের বিশ্বাস, পৃথিবীতে বৈকুণ্ঠ রয়েছে একমাত্র পুরীর মন্দিরে। প্রতি বছর পুরীতে আয়োজিত জগন্নাথের রথযাত্রা দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী ভিড় জমান। কিন্তু জানেন কি এই পুরীর মন্দিরের সঙ্গে নানাবিধ রহস্য জড়িয়ে রয়েছে? জানেন, এই মন্দিরের তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেই সর্বনাশ নেমে আসতে পারে আপনার জীবনে?
রহস্যময় সিঁড়ি
কথিত আছে, জগন্নাথ মন্দিরের তৃতীয় সিঁড়িতে ভক্তদের পা রাখা নিষেধ। জানা যায়, জগন্নাথ দর্শনের পর মানুষ পাপমুক্ত হয় বলে মনে করা হয়। আর তা দেখে যমরাজ জগন্নাথের কাছে এসে বলেছিলেন, আপনাকে দেখে মানুষ সহজে পাপমুক্ত হয়ে যায়। কেউ আর যমলোকে আসে না। সেই সময় নাকি জগন্নাথ যমরাজকে বলেছিলেন, মন্দিরের প্রবেশদ্বারের তৃতীয় ধাপের স্থানটি ‘যম শিলা’ নামে পরিচিত হবে। যে জগন্নাথ দর্শনের সময় তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখবেন, তাঁর সমস্ত পুণ্য হ্রাস পাবে। আর পাপ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য যেতে হবে যমলোকে।
দর্শনের সময়ে কী খেয়াল রাখবেন?
জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান ফটক থেকে প্রবেশের সময় নীচ থেকে তৃতীয় ধাপে ‘যম শিলা’ অবস্থিত। দর্শনের জন্য মন্দিরে প্রবেশের সময় আপনাকে ওই সিঁড়িতে পা রাখতে হবে। তবে, জগন্নাথ দর্শন করে ফেরার সময় সেই পাথরে পা রাখা উচিত নয়। এই পাথরটি কালো রঙের। এবং এই সিঁড়ির রং অন্যান্য সিঁড়ির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
পুরাণে জগন্নাথধামকে মর্ত্যের বৈকুণ্ঠ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। মনে করা হয় স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণই দেহত্যাগের পর জগন্নাথ রূপে এখানে আত্মপ্রকাশ করেন। শুধু ধর্মীয় মাহাত্ম্য নয়, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা রহস্য। পুরীর জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে যে বিভিন্ন রহস্যকথা প্রচলিত আছে, তার মধ্যে অন্যতম হল এই মন্দিরের সিঁড়ি সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাস।