Advertisement

Mahalaya Tarpan Timing: শুক্রবারেই লেগে যাচ্ছে অমাবস্যা, মহালয়ায় তর্পণের সেরা সময় কখন? জানুন তিথি

Sarvapitri Amavasya 2026: ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর সর্বপিতৃ অমাবস্যা। সর্বপিতৃ অমাবস্যা হলো পিতৃপক্ষের শেষ দিন। এই দিনে, পৃথিবীতে অবতীর্ণ পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয় এবং বিদায় জানানো হয়। যদি আপনি পিতৃপক্ষে আপনার পূর্বপুরুষদের জন্য তর্পণ বা শ্রাদ্ধ না করে থাকেন, তবে সর্বপিতৃ অমাবস্যায় তিলাঞ্জলি অর্পণ করে শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের বিদায় জানান। এই দিনে দান করলে অব্যর্থ ফল লাভ হয় এবং সমস্ত বড় সমস্যার অবসান ঘটে। পূর্বপুরুষদের প্রসন্ন করার এটিই শেষ সুযোগ।

অমাবস্যা তিথির সময় জানুনঅমাবস্যা তিথির সময় জানুন
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 06 Oct 2026,
  • अपडेटेड 11:17 AM IST

Sarvapitri Amavasya 2026 Timing: পিতৃপক্ষের সর্বপিতৃ অমাবস্যাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এটি পিতৃপক্ষের শেষ দিন এবং এই দিনে সেই সমস্ত পূর্বপুরুষদের জন্য শ্রাদ্ধ, তর্পণ এবং পিণ্ডদান করা হয়, যাঁদের মৃত্যু তারিখ অজানা অথবা কোনও কারণে নির্ধারিত তারিখে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালে সর্বপিতৃ অমাবস্যা ১০ অক্টোবর, শনিবার পালিত হবে।

সর্বপিতৃ অমাবস্যা ২০২৬ তিথি
৯  অক্টোবর অমাবস্যা তিথি রাত প্রায় ৯:৩৫ মিনিটে শুরু হবে এবং ১০ই অক্টোবর রাত ৯:১৯ মিনিট পর্যন্ত চলবে। সুতরাং, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পাদনের জন্য ১০ অক্টোবর তারিখটি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

কেন সর্বপিতৃ অমাবস্যাকে বিশেষ বলে মনে করা হয়?
সর্বপিতৃ অমাবস্যা মহালয়া অমাবস্যা নামেও পরিচিত। এই দিনে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটে। ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, এই দিনটি সেইসব পূর্বপুরুষদের স্মরণে একটি বিশেষ দিন, যাঁদের শ্রাদ্ধের তারিখ মনে রাখা হয়নি অথবা কোনও কারণে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়নি।

ধর্মীয় পঞ্জিকার প্রথা অনুসারে, যদি কোনও পূর্বপুরুষের মৃত্যু তারিখ অজানা থাকে বা সেই তারিখে শ্রাদ্ধ করা সম্ভব না হয়, তবে সর্বপিতৃ অমাবস্যায় তাঁদের শ্রাদ্ধ করা যেতে পারে। এই দিনে, সকল জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে ভক্তিভরে তর্পণ ও শ্রাদ্ধ করার রীতি প্রচলিত আছে। অতএব, যদি কোনও কারণে পিতৃপক্ষে কোনও পূর্বপুরুষের শ্রাদ্ধ বাদ পড়ে যায়, তবে সর্বপিতৃ অমাবস্যায় তাঁদের জন্য শ্রাদ্ধ করার প্রথা রয়েছে।

সর্বপিতৃ অমাবস্যায় কি করা উচিত?
এই দিনে পারিবারিক প্রথা ও পুরোহিতের পরামর্শ অনুযায়ী তর্পণ, পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা যেতে পারে। পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে জল, তিল ইত্যাদি দিয়ে তর্পণ করার রীতি প্রচলিত আছে। এছাড়াও, অনেক পরিবারে শ্রাদ্ধ উপলক্ষে গরু, কাক ও কুকুরকে খাওয়ানোর এবং অভাবীদের খাদ্য ও বস্ত্র দান করার ঐতিহ্য রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় এটি পঞ্চবলী অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। আপনার সামর্থ্য থাকলে এবং পারিবারিক ঐতিহ্য অনুমতি দিলে, আপনি এদিন ব্রাহ্মণদের খাবার ও দানও করতে পারেন। বাড়িতে এই ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে, ভক্তিভরে কোনও মন্দিরে বা অভাবী ব্যক্তিকে খাদ্য ও শস্য দানও করা যেতে পারে।

Advertisement

তর্পণের সেরা সময় কখন? 
শাস্ত্রানুসারে অমাবস্যা তিথিটি শুরু হচ্ছে ৯ অক্টোবর রাত ৯:৩৫ মিনিটে এবং থাকবে ১০  অক্টোবর রাত ৯:১৯ মিনিট পর্যন্ত। পিতৃপুরুষকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ১০  অক্টোবর সকাল ১১:২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১:৫৬ মিনিট পর্যন্ত সময়টিকে সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হচ্ছে।

শ্রাদ্ধের আগে কি খাবার খাওয়া উচিত নয়?
এই নিয়ম সব পরিবারের জন্য একরকম নয়। অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রথায় পালনকারীকে সংযম ও সাত্ত্বিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হয়, এবং কিছু ক্ষেত্রে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, এটিকে সকলের জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। ব্রত, স্বাস্থ্য, বয়স এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের উপর নির্ভর করে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। তাই, আপনি যদি শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন, তবে কখন খাবেন তা আগে থেকেই আপনার পুরোহিতকে জিজ্ঞাসা করে নিন।

কারা শ্রাদ্ধকর্তা  হতে পারেন?
শ্রাদ্ধ সম্পাদনকারীর বিষয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত, পুত্রের শ্রাদ্ধ সম্পাদনের ঐতিহ্যই প্রধান, কিন্তু পুত্র না থাকলে অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের দ্বারা শ্রাদ্ধ সম্পাদনেরও উল্লেখ পাওয়া যায়। কিছু ঐতিহ্যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে স্ত্রী, কন্যা বা পরিবারের অন্য সদস্যরাও শ্রাদ্ধ সম্পাদন করতে পারেন। সুতরাং, এটা বলা সঠিক হবে না যে শুধুমাত্র জ্যেষ্ঠ পুত্রই সব পরিস্থিতিতে শ্রাদ্ধ করতে পারে। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং প্রাসঙ্গিক রীতিনীতির ভিত্তিতে শ্রাদ্ধকারী নির্ধারণ করা যেতে পারে। পরিবারে একাধিক পুত্রসন্তান থাকলে, তাদের আলাদাভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রথা প্রচলিত আছে। এমন পরিস্থিতিতে, কার্যপ্রণালীর জন্য স্থানীয় পুরোহিতের সঙ্গে পরামর্শ করাই শ্রেয়। 

পিতৃপক্ষে কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত?
অনেক পরিবারেই পিতৃপক্ষে সাত্ত্বিক ও পরিমিত আহার করার ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে শ্রাদ্ধের দিনে শ্রাদ্ধের খাবারের পবিত্রতা ও পদ্ধতির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। মাংস ও মদ পরিহার করার প্রথা  পালিত হয়। তবে, পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, বিউলির ডাল, ছোলা বা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য সংক্রান্ত নিয়মকানুন অঞ্চল ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং, এগুলোকে প্রত্যেক পরিবারের জন্য একই শাস্ত্রীয় নিষেধাজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়।

সর্বপিতৃ অমাবস্যায় এই কাজটি করুন
পিতৃপক্ষে ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা এবং ঈশ্বরকে স্মরণ করা অনেক পারিবারিক ঐতিহ্যের একটি অংশ। ভক্তিভরে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাও পাঠ করা যেতে পারে। তবে, সর্বপিতৃ অমাবস্যায় গীতার ১৮টি অধ্যায়, বা এমনকি শুধু সপ্তম অধ্যায় পাঠ করা বাধ্যতামূলক, একথা বলা সমীচিন হবে না। বরং ব্যক্তিবিশেষের জন্য নিজ নিজ বিশ্বাস ও পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসারে গীতা পাঠ করা, মন্ত্র জপ করা, বা ঈশ্বরকে স্মরণ করাই অধিকতর সমীচিন।

Read more!
Advertisement
Advertisement