
Somnath Amrit Mahotsav 2026: সালটা ১৯৫১, ১১ মে। আরব সাগরের নীল জলরাশি সাক্ষী ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। দীর্ঘ পরাধীনতা আর ধ্বংসলীলার কালিমামুক্ত হয়ে সেদিনই নতুন করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল ভারতের আদি জ্যোতির্লিঙ্গ সোমনাথ মন্দিরের। সেই ঘটনার ঠিক ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১১ মে, ২০২৬-এ। আর এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে সেজে উঠেছে গোটা গুজরাট। মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে ‘অমৃত মহোৎসব’। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১১ মে সোমনাথে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
স্বাধীন ভারতের প্রথম বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হয় সোমনাথ মন্দিরের এই পুনর্নির্মাণকে। ৭৫ বছর আগেকার সেই উন্মাদনা আজও টাটকা স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে। ৮৪ বছর বয়সী ভাস্কর ভাই বৈদ তখন মাত্র ১০ বছরের বালক। বাবার হাত ধরে সেদিন পৌঁছে গিয়েছিলেন মন্দির প্রাঙ্গণে। তাঁর স্মৃতিচারণায় উঠে এল সেই আবেগের দিনটি। তিনি জানান, "চারিদিকে কেবল মানুষের মাথা। আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ধ্বনি উঠছিল, জয় সোমনাথ! আজও কানে বাজে সেই ১০১টি তোপের গর্জন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেদিন সোমনাথকে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল।"
সেই ঐতিহাসিক দিনে ভক্তি কেবল স্থলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ছড়িয়ে পড়েছিল উত্তাল সমুদ্রেও। প্রায় ১০১টি সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে মৎস্যজীবীরা আরব সাগরের বুক থেকে জয়ধ্বনি দিচ্ছিলেন। মন্দিরে আগত হাজার হাজার ভক্তের জন্য এলাহি ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেই সময়। ভাটিয়া ধর্মশালাসহ আশপাশের সব বাড়িঘর ঠাসা ছিল লাড্ডু আর গাঁটিয়া প্রসাদে। দিনরাত চলেছে বিতরণ।
১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম এই সোমনাথ মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। বারবার আক্রান্ত হয়েও ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার প্রতীক এই মন্দির। আধুনিক ভারতের সেই পুনর্জাগরণকেই এবার ৭৫ বছরের মাইলফলকে দাঁড়িয়ে উদযাপন করতে চলেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে সমুদ্রের তিন দিক দিয়ে ঘেরা এই আধুনিক স্থাপত্য। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে সোমনাথের এই ‘অমৃত মহোৎসব’ এখন সারা ভারতের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।