
Surya Grahan 2026: জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাবলীর জন্য ২০২৬ সালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই বছর ইতিমধ্যে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ ঘটে গেছে। আরও দু'টি গ্রহণ বাকি আছে, যে দুটিই খুব বিশেষ। ২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণটি এর দীর্ঘস্থায়ীত্বের কারণে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এটিকে শতাব্দীর গ্রহণ বলা হচ্ছে। তাই, ২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণ নিয়ে মানুষের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল রয়েছে।
২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কবে?
২০২৬ সালের প্রধান সূর্যগ্রহণটি ১২ অগাস্ট রাতে শুরু হয়ে ১৩ অগাস্ট সকাল পর্যন্ত চলবে। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, এটি ভারতে সরাসরি দেখা যাবে না। দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণটি ২৭ ও ২৮ অগাস্ট রাতে ঘটবে।
সূর্যগ্রহণটি কোথায় দেখা যাবে?
এই সূর্যগ্রহণটি প্রধানত গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আর্কটিক অঞ্চল এবং ইউরোপের কিছু অংশে দেখা যাবে। এটি ভারতে দেখা যাবে না, তাই সেখানে এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। চন্দ্রগ্রহণটি আরও অনেক বড় একটি ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে দেখা যাবে, প্রধানত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ ও আফ্রিকা এবং পূর্ব প্রশান্ত ও আটলান্টিক অঞ্চলে।
ভারতে কি সূতক পর্ব পালিত হবে?
যেহেতু এই গ্রহণ ভারতে দেখা যাবে না, তাই এখানে সূতক পর্ব পালন করা হবে না। এর মানে হল, মানুষ কোনও বাধা ছাড়াই তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম, প্রার্থনা এবং শুভ অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে পারবে।
২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণ কেন বিশেষ?
২০২৭ সালের ২ অগাস্টের সূর্যগ্রহণটি অত্যন্ত বিশেষ বলে বিবেচিত হয়। এর মোট স্থায়িত্ব প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড হতে পারে, যা এটিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
দিনের বেলায় অন্ধকারের মতো দৃশ্য
এই গ্রহণের সময়, দিনের বেলায় অনেক এলাকায় অন্ধকার নেমে আসতে পারে। এটি ঘটে যখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে। এই সময়ে, আকাশ জুড়ে সূর্যাস্তের মতো এক অনন্য দৃশ্য দেখা যায়।
ভারতে এর প্রভাব কী হবে?
ভারতে, ২০২৭ সালের এই সূর্যগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নয়, কেবল আংশিকভাবে দেখা যাবে। এর অর্থ হল, সূর্যের কিছু অংশ ঢাকা পড়বে, যা এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করবে, কিন্তু পুরোপুরি অন্ধকার হবে না।
একে ‘শতাব্দীর গ্রহণ’ বলা হয় কেন?
এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ একটি বিরল ঘটনা। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন বিরল ঘটনা বহু বছর পর পর ঘটে, যে কারণে একে ‘শতাব্দীর গ্রহণ’ বলা হচ্ছে। ২০২৭ সালের এই বিশেষ সূর্যগ্রহণের সময় একটি আকর্ষণীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরিস্থিতি তৈরি হবে। তখন চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে থাকবে, আর সূর্য তুলনামূলকভাবে দূরে থাকবে। এর ফলে আকাশে চাঁদকে আরও বড় দেখাবে এবং এটি সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে।
এর ফলে সৃষ্ট ছায়া নিরক্ষরেখার অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ফলে, যেসব এলাকায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, সেখানে প্রায় ছয় মিনিটের জন্য দিনের আলোও থাকবে না।
এই সময়ে আকাশটি হবে সত্যিই অনন্য। ৩৬০-ডিগ্রি সূর্যাস্ত দেখা যাবে, যেন দিগন্তের প্রতিটি দিকে সূর্য একই সাথে অস্ত যাচ্ছে। এই বিরল ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা খুব কমই দেখা যায়, এবং সেই কারণেই এটিকে বিশেষ বলে মনে করা হয়।