
আলোর উৎসব শুধু প্রদীপ জ্বালানো বা নতুন পোশাক কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাড়িঘর সাজানো, পরিষ্কার রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াও দীপাবলির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পাঁচ দিনে বাড়ির কয়েকটি দিকে বিশেষ নজর দিলে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। ধনতেরস থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত কোন পাঁচটি নিয়ম মানতে পারেন? রইল তার হদিস। মনে রাখবেন, এগুলি ধর্মীয় ও বাস্তুসংক্রান্ত বিশ্বাস। টাকা বাড়ার কোনও বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নয়।
১. ধনতেরসে সাজিয়ে তুলুন বাড়ির প্রবেশদ্বার
ধনতেরস থেকেই শুরু হয় দীপাবলির পাঁচ দিনের উৎসব। বাস্তুমতে, বাড়ির প্রধান দরজা পরিষ্কার ও আলোয় ভরা রাখা শুভ। দরজায় ফুলের মালা বা তোরণ লাগাতে পারেন। ধনতেরসে সোনা, রুপো কিংবা বাসন কেনার রীতি রয়েছে। কেনা জিনিস পরিষ্কার জায়গায় রাখুন। টাকা-পয়সা রাখার আলমারি বা লকারও গুছিয়ে নিন।
২. ছোট দীপাবলিতে নজর দিন বাড়ির কোণে
নরক চতুর্দশী বা ছোট দীপাবলিতে বাড়ির অব্যবহৃত জিনিস সরিয়ে ফেলুন। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব দিক, অর্থাৎ ঈশান কোণ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেয় বাস্তুশাস্ত্র। জানলা, দরজার পিছনে জমে থাকা ধুলোও সরান। সন্ধ্যায় প্রধান দরজায় প্রদীপ জ্বালাতে পারেন।
৩. দীপাবলিতে পুজোর জায়গা ঠিক করুন
৮ নভেম্বর, রবিবার দীপাবলি। এই দিন লক্ষ্মী-গণেশের পুজো হয়। বাস্তুমতে, বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে পুজোর জায়গা রাখা ভাল। তবে বাড়ির গঠন ও পারিবারিক রীতিও মাথায় রাখুন। পুজোর জায়গা পরিষ্কার করে ফুল, প্রদীপ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাজিয়ে রাখুন। সন্ধ্যায় বাড়ির বারান্দা ও জানলায় আলো জ্বালান।
৪. গোবর্ধন পুজোয় রান্নাঘর গুছিয়ে রাখুন
এই দিনে রান্নাঘর পরিষ্কার করুন। চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী ঢাকা পাত্রে রাখুন। অন্নকূটের ভোগ তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন। বাড়ির তুলসী ও অন্যান্য গাছেরও যত্ন নিন।
৫. ভাইফোঁটায় বজায় রাখুন পারিবারিক সম্প্রীতি
উৎসবের শেষ দিনে বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ রাখুন। পুজোর জায়গা পরিষ্কার করুন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। কারণ, সুখী সংসারের সবচেয়ে বড় সম্পদ পারস্পরিক ভালবাসা ও বিশ্বাস।