
অনেকেই বাস্তু অনুযায়ী ঘর সাজান। কিন্তু বাস্তুর ক্ষেত্রে যে মূল গেট বা প্রধান দরজার ভূমিকা বিরাট, তা ভুলে যান বহু লোক। ফলে সংসারে সব ঠিক থেকেও বাধা-বিপত্তি আসতে থাকে। আসলে বাড়ির প্রধান দরজা শুধু একটি ঢোকার জায়গা না, বরং এটি বাড়ির শুভ-অশুভ আগমনের রাস্তাও। বিশ্বাস করা হয়, পজিটিভ ও নেগেটিভ- দুই শক্তিই এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।এই কারণেই মানুষ প্রধান দরজাটি সাজায় এবং সেখানে দেব-দেবীর ছবি রাখে। কিন্তু সব দেব-দেবীর ছবি রাখা যথার্থ নয়।
গণেশের ছবি
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারে ভগবান গণেশের ছবি বা মূর্তি স্থাপন করা শুভ বলে মনে করা হয়। গণেশকে বিঘ্নহর্তা হিসেবে জানা যায়। বিশ্বাস করা হয় তাঁর উপস্থিতি ঘরে সুখ, শান্তি এবং পজিটিভ ভাইব নিয়ে আসে। তবে দেখতে হবে, তাঁর পিঠ যেন বাড়ির দিকে না থাকে। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, গণেশের পিঠের দিকে মুখ করা অশুভ বলে বিবেচিত হয়।
ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির জন্য লক্ষ্মী-কুবেরের ছবি
প্রধান দরজায় ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির শুভ প্রতীক স্থাপন করতে চাইলে দেবী লক্ষ্মী এবং ভগবান কুবেরের ছবি রাখতে পারেন। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, তাঁদের ছবি ঘরে আর্থিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। দেবী লক্ষ্মীর মূর্তি স্থাপন করার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। মূল গেটে দেবী লক্ষ্মীর বসা মূর্তি বা ছবি থাকা উচিত, দাঁড়ানো নয়। প্রধান দরজায় দেবী লক্ষ্মীর পদচিহ্ন স্থাপন করাও শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে এটি ঘরে সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। এছাড়াও, প্রধান দরজায় একটি স্বস্তিকা বা শুভ প্রতীকও স্থাপন করা যেতে পারে।
কোন ধরনের ছবি না রাখাই ভালো?
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, প্রধান প্রবেশদ্বারে ভগবান শিবের উগ্র রূপ শনিদেব বা দেবী কালীর ছবি রাখা না রাখাই ভালো। ধর্মীয় মূর্তি বসানোর আগে, সেগুলির আকৃতি এবং স্থাপনের স্থান উভয়ই বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ভাবেই দেবতার শরীরে অংশ ছবিতে যেন কাটা না পড়ে, তা দেখা উচিত।
এছাড়াও, মূল গেটের আশপাশ ভালো করে পরিষ্কার রাখা উচিত। ছবির চারপাশে ধুলো বা ময়লা জমতে দেওয়া উচিত নয়। বাড়ির মূল গেটের চারপাশ ভালোভাবে আলো থাকা উচিত। সেখানে কোনো ছবি ঝোলানো থাকলে, মৃদু আলোর জন্য তার চারপাশে একটি ছোট বাল্ব রাখা যেতে পারে।