
ধুমধাম করে শুক্রবার পালিত হবে বিশ্বকর্মা পুজো। যাঁকে স্বর্গের ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়ে থাকে। তাই পেশাগত ভাবে যাঁরা নিত্যজীবনে মেশিন-যন্ত্রাংশ নিয়ে কারবার করেন, গাড়ি চালান, তাঁরা এদিন পুজো করে থাকেন। এবার বিশ্বকর্মা পুজোয় গাড়ির পুজো কখন দেবেন?
বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে মেশিন ছাড়া গতি নেই। কম্পিউটার, স্মার্টফোন, টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন আমাদের নিত্যজীবনের সঙ্গী। যাঁদের নিজস্ব গাড়ি আছে, বিশ্বকর্মা পুজোয় তাঁরা গাড়ির পুজো করেন।
কীভাবে করবেন গাড়ির পুজো?
অবশ্যই নিজের গাড়ি পরিষ্কার করবেন। যদি নিজে পরিষ্কার করার সময় না পান, তাহলে লোক ডেকে গাড়ি ধোওয়ান। একটা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে একবার গাড়ি ভাল করে মুছে নিন।
বলা হয়, সব যন্ত্রেই বিশ্বকর্মার বাস। তাই গাড়ির ইঞ্জিনে সিঁদুর পড়িয়ে স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে নেওয়া হয় পুজোর সময়ে। ফুল-মালা ও চাল নিবেদন করে পুজো করা হয়। লাল ও হলুদ সুতোয় একটি সুপারি জড়িয়ে সেটি হাতে নিয়ে গাড়িকে সুরক্ষিত ও নিরাপদে রাখার জন্য বিশ্বকর্মার কাছে প্রার্থনা করতে হয়। গাড়িতে যেন কোনও অশুভ প্রভাব না পড়ে, তাঁর জন্যও এই পুজো জরুরি বলে মনে করা হয়। গোটা আতপ চাল, টাটকা ফুল, ধূপ, দ্বীপ নিবেদন করা হয় গাড়ির পুজোতে।
কখন করবেন গাড়ির পুজো?
শুক্রবার, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে ১ আশ্বি। শাস্ত্রমতে, যে কোনও স্মার্ত পুজোর সংকল্প পূর্বাহ্নে করা হয়ে থাকে। পূর্বাহ্ন অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পর প্রথম প্রহর। এই প্রথম প্রহরের ৩ ঘণ্টা ধরা হচ্ছে এদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত। তবে পুজো করার আদর্শ সময় সকাল ৭টা ৫২ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ১০ মিনিটের মধ্যে।
কেউ এই সময়ের মধ্যে পুজো সম্পন্ন না করতে পারলে পরবর্তী সময় বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ২৩ মিনিটের মধ্যে।
প্রয়োজন না হলে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন গাড়ি বের করবেন না। এদিন আপনার গাড়িকে বিশ্রাম দিন। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আপনার গাড়ি ভুলেও আর কাউকে ব্যবহার করতে দেবেন না। একে অশুভ বলে মনে করা হয়। গাড়ির পুজো করার সময় ইঞ্জিন একবার স্টার্ট দিয়ে নেবেন। এদিন গাড়ির পুজো দিলে আপনার গাড়ি কখনও মাঝরাস্তায় বিগড়ে গিয়ে আপনাকে সমস্যার মধ্যে ফেলবে না বলে প্রচলিত বিশ্বাস।