
"আজ আমাদের ন্যাড়াপোড়া, কাল আমাদের দোল…" এই ছড়ার সঙ্গে পরিচিত নয়, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। উত্তর ভারত জুড়ে যে হোলিকা দহন পালন করা হয়। তাঁরই বাংলা সংস্করণ হল ন্যাড়া পোড়া। কোথাও আবার অপভ্রংশ হয়ে এই রীতির নামই বদলে হয়ে গিয়েছে 'বুড়ির ঘর'। পশ্চিমবঙ্গের কোনও কোনও জেলায় এই উৎসবকেই 'চাঁচল পোড়া'ও বলা হয়ে থাকে। তবে নাম যাই হোক না কেন, বিষয়টি আসলে একই। দোলের আগের দিন বাংলার জেলায় জেলায় এই রীতি পালন করা হয়।
খড়, বাঁশ, শুকনো ডালপালা দিয়ে একটি ছোট কুটির বা কাঠামো বানিয়ে তা পোড়ানো হয়- যা 'বুড়ির ঘর পোড়ানো' নামে পরিচিত। তবে এই রীতির বিশেষ কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেগুলি কী কী বুঝে নেওয়া যাক।
পুরাণকথা:হোলিকা দহন
উত্তর ভারতে এই রীতি হোলিকা দহন নামে পরিচিত। পুরাণ অনুসারে অসুররাজ হিরণ্যকাশ্যপু তাঁর ভক্তপুত্র প্রহ্লাদকে হত্যা করতে বোন হোলিকাকে আগুনে বসান। কিন্তু দেবভক্ত প্রহ্লাদ রক্ষা পান আর হোলিকা দগ্ধ হয়ে যান। তাই আগুন জ্বালানো প্রতীক- অসুরতা ও অহংকারের বিনাশ, ভক্তি ও ন্যায়ের জয়।
পরিবেশগত কারণ রয়েছে
আগে বাংলা বা সারা দেশে এত শহর ছিল না। বেশিরভাগ এলাকাই ছিল গ্রাম্য়। প্রচুর গাছপালা থাকায় বিভিন্ন এলাকায় শীতে পাতা ঝরার মরশুমে বিপুল পরিমাণে বর্জ্য জমা হত। এই বর্জ্যগুলিকে ন্যাড়াপোড়ার মাধ্যমে পুড়িয়ে ফেলে পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখা হত।
গ্রাম্য মানুষের জন্য মনোরঞ্জন
আগে গ্রাম বাংলায় মানুষের মনোরঞ্জনের বিশেষ মাধ্যম ছিল না। এই 'ন্যাড়াপোড়া' বা 'বুড়ির ঘর' পালনের মাধ্যমে দোলের আগের দিন গ্রাম বাংলার মানুষ নিজেদের মনোরঞ্জন করত।