Advertisement

Yogini Ekadashi Tulsi Upay: যোগিনী একাদশীতে করুন তুলসীর এই উপায়, মা লক্ষ্মীর কৃপায় বিপুল অর্থলাভ হবে

Yogini Ekadashi Tulsi Upay: একাদশীর পুণ্য লগ্নে তুলসী গাছের গোড়ায় কাঁচা দুধ নিবেদন করার একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে, সামান্য গঙ্গা জলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা কাঁচা গরুর দুধ মিশিয়ে তুলসী গাছের গোড়ায় ঢাললে ভগবান বিষ্ণু অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন, মনে করা হয় এই উপায়ে মা লক্ষ্মীও ভীষণ প্রসন্ন হন।

Yogini Ekadashi Tulsi Upay: যোগিনী একাদশীতে করুন তুলসীর এই উপায়, মা লক্ষ্মীর কৃপায় বিপুল অর্থলাভ হবেYogini Ekadashi Tulsi Upay: যোগিনী একাদশীতে করুন তুলসীর এই উপায়, মা লক্ষ্মীর কৃপায় বিপুল অর্থলাভ হবে
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 09 Jul 2026,
  • अपडेटेड 8:26 PM IST

Yogini Ekadashi Tulsi Upay: সনাতন ধর্মে একাদশী ব্রতের গুরুত্ব অপরিসীম, আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই বিশেষ তিথিটি যোগিনী একাদশী নামে পরিচিত, এই পবিত্র দিনে জগৎপালক ভগবান বিষ্ণু এবং ধনসম্পদের দেবী মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়ে থাকে, হিন্দু শাস্ত্র মতে এই ব্রত পালন করলে মানুষের সমস্ত পাপ দূর হয় এবং জীবনে সুখ সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়, ২০২৬ সালের এই বিশেষ দিনে ভগবান বিষ্ণুর কৃপা পাওয়ার জন্য তুলসী গাছের কিছু সহজ টোটকা বা উপায়ের কথা বলা হয়েছে, যা মেনে চললে সংসারে কোনোদিন অভাব অনটন ছুঁতে পারবে না বলে বিশ্বাস ভক্তদের

শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুসারে যোগিনী একাদশীর দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নেওয়া উচিত, এরপর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বস্ত্র পরিধান করে ব্রতের সংকল্প নেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, এই পুণ্য তিথিতে ঘরের তুলসী মঞ্চ বা তুলসী গাছের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ তুলসী দেবী হলেন ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয়, একাদশীর সকালে স্নানের পর তুলসী গাছে জল অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ ফলদায়ী, তবে খেয়াল রাখতে হবে জল যেন খুব বেশি পরিমাণে ঢালা না হয়, এই নিয়ম মেনে চললে জীবনে ইতিবাচক শক্তির বিকাশ ঘটে

একাদশীর পুণ্য লগ্নে তুলসী গাছের গোড়ায় কাঁচা দুধ নিবেদন করার একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে, সামান্য গঙ্গা জলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা কাঁচা গরুর দুধ মিশিয়ে তুলসী গাছের গোড়ায় ঢাললে ভগবান বিষ্ণু অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন, মনে করা হয় এই উপায়ে মা লক্ষ্মীও ভীষণ প্রসন্ন হন, যার ফলে জাতকের কুষ্টিতে থাকা রাহু কেতুর অশুভ দশা কেটে যায়, কাঁচা দুধ অর্পণের সময় মনে মনে ভগবান বিষ্ণুর মন্ত্র জপ করা উচিত, এর ফলে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা যেকোনো ধরনের আর্থিক অনটন বা টানাটানি দূর হয়ে যায়

Advertisement

যোগিনী একাদশীর দিন সন্ধ্যার সময় তুলসী গাছের নিচে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত কল্যাণকর, এই প্রদীপটি জ্বালানোর সময় তাতে সামান্য সিঁদুর বা কুমকুম মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে, প্রদীপ জ্বালানোর পর তুলসী দেবীকে স্মরণ করে ভক্তিভরে আরতি করা উচিত, বিশ্বাস করা হয় যে এই প্রদীপ জ্বালানোর ফলে ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি বা বাস্তুদোষ নিমেষের মধ্যে দূর হয়ে যায়, এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সুখ শান্তি বজায় থাকে এবং সব কাজেই সফলতা আসে

সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর পর তুলসী গাছকে প্রদক্ষিণ করার একটি বিশেষ মহিমা রয়েছে, এই দিন তুলসী গাছের চারপাশ অন্তত তিনবার বা এগারোবার পরিক্রমা করা উচিত, পরিক্রমা করার সময় ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় মন্ত্রটি অনবরত জপ করতে হবে, হিন্দু ধর্মে মনে করা হয় যে এই প্রদক্ষিণ করার ফলে মানুষের মনের সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়, শুধু তাই নয় এর ফলে কোষ্ঠীর গ্রহ জনিত নানা সমস্যা মিটে যায় এবং জীবনের চলার পথ অনেক বেশি মসৃণ ও বাধাহীন হয়ে ওঠে

যোগিনী একাদশীর এই মহা তিথিতে একটি বিশেষ মন্ত্র পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ী বলে মনে করা হয়, তুলসী পূজার সময় মহাপ্রসাদ জননী সর্ব সৌভাগ্য বর্ধিনী, আধিব্যাধি হারিণী তুলসী ত্বং নমোস্তুতে, এই মন্ত্রটি ভক্তিভরে পাঠ করলে জীবনের সমস্ত রোগ ব্যাধি এবং মানসিক কষ্ট দূর হয়ে যায়, শাস্ত্রে বলা হয়েছে এই মন্ত্রটি নিয়মিত পাঠ করলে মানুষের মনের সব রকম ভয় দূর হয় এবং একাদশী ব্রতের পুণ্য ফল কয়েক গুণ বেশি বৃদ্ধি পায়, যা ভক্তকে আধ্যাত্মিক শান্তির দিকে নিয়ে যায়

একাদশীর দিন তুলসী গাছে একটি লাল বা হলুদ রঙের সুতো বাঁধার নিয়ম অত্যন্ত প্রচলিত, বিশেষ করে বিবাহিত মহিলারা যদি এই দিন তুলসী গাছের ডালে একটি লাল সুতো বা মৌলি ধাগা বেঁধে নিজেদের মনের ইচ্ছা জানান, তবে তা খুব দ্রুত পূরণ হয় বলে লোকবিশ্বাস রয়েছে, এই উপায়ের ফলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক মধুর হয় এবং দাম্পত্য জীবনের সমস্ত কলহ দূর হয়ে যায়, তবে মনে রাখতে হবে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেলে পরবর্তী যেকোনো একাদশীর দিন সেই সুতোটি খুলে নদীর জলে ভাসিয়ে দিতে হবে

শাস্ত্র মতে যোগিনী একাদশীর দিন ভুল করেও তুলসী পাতা ছেঁড়া উচিত নয়, এমনকি এই দিন তুলসী গাছে অপ্রয়োজনে হাত দেওয়া বা পাতা স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়, যদি পুজো বা ভোগের জন্য তুলসী পাতার প্রয়োজন হয়, তবে তা একাদশী তিথি শুরু হওয়ার আগের দিন অর্থাৎ দশমীর দিনই তুলে রেখে দেওয়া উচিত, একাদশীর দিন ভুলবশত তুলসী পাতা ছিঁড়লে ভগবান বিষ্ণু চরম রুষ্ট হন এবং এর ফলে সংসারে নানা অমঙ্গল বা আর্থিক ক্ষতি নেমে আসতে পারে

এই বিশেষ দিনে দান ধ্যানের গুরুত্বও অপরিসীম, যোগিনী একাদশীর দিন পূজার পর গরিব বা দুস্থ মানুষদের অন্ন বস্ত্র বা জল দান করলে পুণ্য খাতা সমৃদ্ধ হয়, বিশেষ করে তুলসী গাছের সামনে বসে দান করার সংকল্প নিলে তার ফল বহুগুণ বেড়ে যায়, জ্যোতিষীদের মতে এই দিন তিল বা ছাতা দান করলে পিতৃপুরুষদের আত্মাও শান্তি পায়, যার ফলে জাতকের জীবন থেকে পিতৃ দোষের মতো কঠিন সমস্যা দূর হয়ে যায় এবং বংশের উন্নতি ঘটে

বাস্তুশাস্ত্র অনু্যায়ী বাড়িতে তুলসী গাছ রাখার সঠিক দিক হলো উত্তর বা উত্তর পূর্ব দিক, যোগিনী একাদশীর এই শুভ দিনে যদি তুলসী গাছের দিক পরিবর্তন করতে হয়, তবে তা এই নির্দিষ্ট দিকেই রাখা উচিত, ভুল দিকে তুলসী গাছ রাখলে সংসারে অশান্তি বৃদ্ধি পেতে পারে, সঠিক দিকে তুলসী গাছ রেখে এই একাদশীর সমস্ত নিয়ম ও উপাচার পালন করলে গৃহের সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয়ে যায় এবং এক ঐশ্বরিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়

Advertisement

পরিশেষে বলা যায় যোগিনী একাদশী হলো মা লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ পাওয়ার এক মহৎ সুযোগ, এই দিন তুলসী গাছের এই সহজ ও ঘরোয়া উপায়গুলি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে মানুষের জীবন সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে, সমস্ত রকম বাধা বিপত্তি কাটিয়ে জীবনে নেমে আসে অনাবিল সুখ ও শান্তি, তাই প্রতিটি ভক্তেরই উচিত এই পবিত্র তিথির মর্যাদা রক্ষা করে ভক্তিভরে মা তুলসী এবং শ্রী হরির আরাধনায় ব্রতী হওয়া

 

Read more!
Advertisement
Advertisement