Advertisement

৬০ শতাংশ ঋণগ্রহীতার EMI তাঁদের মাসিক আয়ের চেয়েও বেশি, চাঞ্চল্যকর তথ্য

এই পরিস্থিতিতে যেসব পরিবারকে প্রতি মাসে সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তাদের কাছে উৎসবের কেনাকাটার জন্য নতুন ঋণ নেওয়া আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও কলকাতা ,
  • 12 Oct 2026,
  • अपडेटेड 2:45 PM IST
  • এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, অনেকেই জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন
  • এর মধ্যে উৎসবের কেনাকাটার জন্য নতুন ঋণ নিলে মাসিক খরচের চাপ আরও বাড়তে পারে

পুজো বা উৎসবের মরসুমে নতুন ফোন কেনা, পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া কিংবা প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া। উৎসবের মরশুমে এমন নানা পরিকল্পনা করেন অনেকেই। কিন্তু সঞ্চয়ে টান পড়লে সেই খরচ মেটাতে ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের সাহায্য নেন অনেকে। মাসে অল্প টাকা EMI দিতে হবে ভেবে ঋণ নেওয়া হলেও, একাধিক কিস্তি জমতে শুরু করলে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। ফলে উৎসবের আনন্দের জন্য নেওয়া ঋণই পরে সংসারের বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

ঋণ ও ধার সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের প্ল্যাটফর্ম এক্সপার্ট প্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণগ্রহীতার EMI তাঁদের পরিবারের মোট মাসিক আয়ের সমান বা তার কাছাকাছি, এমনকী তার চেয়েও বেশি। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, প্রায় ৪০ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পুরনো ঋণের EMI মেটাতে নতুন ঋণ নিচ্ছেন অথবা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন।

এই পরিস্থিতিতে যেসব পরিবারকে প্রতি মাসে সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তাদের কাছে উৎসবের কেনাকাটার জন্য নতুন ঋণ নেওয়া আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কেন ঋণ নিচ্ছেন মানুষ?

সবাই যে কেনাকাটা বা বেড়াতে যাওয়ার জন্য ঋণ নিচ্ছেন, তা নয়। অনেক পরিবার চিকিৎসা, পড়াশোনা, বিয়ে কিংবা দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও ঋণের উপর নির্ভর করছে।

Expert Panel-এর তথ্য অনুযায়ী, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কারণ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজন। মোট ঋণ নেওয়ার ঘটনার ২৬ শতাংশের ক্ষেত্রে এই কারণ উঠে এসেছে। পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন, যেমন বিয়ে ও পড়াশোনার খরচ মেটাতে ঋণ নিয়েছেন ২২ শতাংশ। ব্যবসা বা চাকরি সংক্রান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার হার ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে, সংসার চালানো ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ঋণ নিয়েছেন ১৫ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, অনেকেই জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর মধ্যে উৎসবের কেনাকাটার জন্য নতুন ঋণ নিলে মাসিক খরচের চাপ আরও বাড়তে পারে।

Advertisement

ঋণ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে কেন?

ঋণ নেওয়ার পর অনেক সময় আয় কমে যায়, চাকরি চলে যায় কিংবা হঠাৎ কোনও বড় খরচ এসে পড়ে। তখন নিয়মিত EMI দেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। Expert Panel-এর সামনে আসা তথ্য মোতাবেক, ঋণ পরিশোধে সমস্যার মুখে পড়া ঘটনাগুলির মধ্যে ৩১ শতাংশ ক্ষেত্রে চাকরি হারানো বা বেতন কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। আয়ের তুলনায় বেশি EMI দিতে হওয়াকে ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একাধিক ঋণ বা অতিরিক্ত ধার নেওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েছেন ১৯ শতাংশ। চিকিৎসা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনের কারণে ঋণ পরিশোধে সমস্যা হয়েছে আরও ১২ শতাংশ ক্ষেত্রে।

অর্থাৎ, নিয়মিত আয় থাকলেও একাধিক ঋণের কিস্তি সামলানো কঠিন হতে পারে। আর আয় কমে গেলে সেই সমস্যা আরও বাড়ে।

পুরনো ঋণ মেটাতে নতুন ঋণ!

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, পুরনো ঋণের কিস্তি মেটাতে নতুন ঋণ নিতে হচ্ছে অনেককে। Expert Panel-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পুরনো EMI সামলাতে নতুন ঋণ নিচ্ছেন অথবা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন।

প্রথমে নতুন ঋণ নিয়ে সাময়িকভাবে সমস্যা মেটানো সম্ভব হলেও, পরে সেই ঋণের কিস্তিও দিতে হয়। ফলে ব্যক্তিগত ঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য EMI মিলিয়ে মাসিক খরচ ক্রমশ বাড়তে থাকে। একসময় এই ঋণের চক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

Expert Panel-এর ডিরেক্টর অনুরাগ মেহরা জানিয়েছেন, উৎসবের সময়ে আবেগ, সামাজিক প্রত্যাশা এবং উদযাপনকে বিশেষ করে তোলার ইচ্ছা থেকে অনেকেই অতিরিক্ত খরচ করেন। কিন্তু সেই খরচের জন্য ঋণ নিলে সাময়িক কেনাকাটা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়ে পরিণত হতে পারে।

তাঁর বক্তব্য, বহু ঋণগ্রহীতার আয়ের বড় অংশ ইতিমধ্যেই EMI দিতে চলে যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে আবার পুরনো ঋণের কিস্তি মেটাতে নতুন ঋণ নিচ্ছেন। তাই উৎসবের জন্য ঋণ নেওয়ার আগে পুরনো EMI, ঋণের মোট খরচ এবং তা পরিশোধ করার ক্ষমতা হিসাব করে দেখা জরুরি।

উৎসবের কেনাকাটায় ঋণ নেওয়া কি ঠিক?

উৎসবের সময়ে বিভিন্ন সংস্থার ছাড়, বিশেষ অফার এবং সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ দেখে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খরচ করে ফেলেন। এখন কেনাকাটা করে পরে টাকা দেওয়ার সুবিধা আকর্ষণীয় মনে হলেও, তার কিস্তি পরবর্তী কয়েক মাস সংসারের বাজেটে চাপ তৈরি করতে পারে। অনুরাগ মেহরার পরামর্শ, শুধুমাত্র উৎসবের আনন্দ বাড়ানোর জন্য এমন ঋণ নেওয়া উচিত নয়, যার কিস্তি পরে সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। ঋণ নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় হিসাব করে দেখা জরুরি।

প্রথমত, আগে থেকেই কত টাকা EMI দিতে হচ্ছে, তা হিসাব করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ জানতে হবে। তৃতীয়ত, নতুন ঋণ নিলে মোট কত টাকা সুদ দিতে হবে এবং মাসিক কিস্তি কত বাড়বে, তা বুঝে নিতে হবে।

এছাড়া, হঠাৎ কোনও জরুরি খরচ এলে সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য থাকবে কি না, সেটাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। যে কেনাকাটা এখনই জরুরি নয়, তা কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়াই অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

উৎসবের আনন্দ, নাকি ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ?

Expert Panel-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণগ্রহীতার EMI তাঁদের পরিবারের মাসিক আয়ের সমান বা তার কাছাকাছি, এমনকী তার চেয়েও বেশি। এই পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা যাচাই না করে নতুন ঋণ নিলে আর্থিক সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

উৎসবের আনন্দ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের। কিন্তু সেই উপলক্ষে নেওয়া ঋণের কিস্তি চলতে পারে দীর্ঘদিন। তাই নতুন ঋণ নেওয়ার আগে ভেবে দেখা জরুরি, সেই কেনাকাটা সত্যিই কতটা প্রয়োজনীয় এবং তার জন্য পরবর্তী মাসগুলিতে অতিরিক্ত খরচ বহন করা সম্ভব কি না। সাময়িক আনন্দের জন্য ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটাই বিবেচনা করা দরকার।

Advertisement
Read more!
Advertisement
Advertisement