
সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিনই রক্তাক্ত ভারতের শেয়ারবাজার। খুলতেই সেনসেক্স, নিফটি-দুই সূচকেই ক্র্যাশ নেমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি ও ইরান-আমেরিকার শান্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা এই ভাঙনের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোনা ও রুপো কিনতে বারণ করা এবং তেল ব্যবহার কমানোর পক্ষে সওয়ালের কারণেও আতঙ্কিত হয়েছে শেয়ারবাজার। সেই কারণেও হু হু করে পড়ছে সেনসেক্স ও নিফটি।
এ দিন দিনের শুরুতেই ৯৪৪ পয়েন্ট পড়ে যায় সেনসেক্স। ও দিকে নিফটিও ২৭৫ নেমে যায়। যার ফলে বড় ক্ষতি হয়ে যায় বিনিয়োগকারীদের।
সেনসেক্স, নিফটির কী হাল?
আগের দিনের ক্লোজিং ৭৭,৩২৮ পয়েন্ট থেকে অনেকটা নেমে ৭৬,৬৩৮ পয়েন্টে শুরু সেনসেক্স। আর ৫ মিনিটের মধ্যে এটা আরও তলিয়ে যায়। তারপর ৯৪৪ পয়েন্ট নেমে ৭৬,৩৬৩ পয়েন্টে চলে যায়।
একই ট্রেন্ড ফলো করে নিফটিও। আগের দিনের ক্লোজিং ২৪,১৭৬ পয়েন্ট থেকে অনেকটা নেমে ২৩,৯৭০ পয়েন্টে শুরু করে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই এটা ২৭৫ পয়েন্ট পড়ে যায়। এটি নেমে যায় ২৩,৮৯৫ পয়েন্ট।
স্টক মার্কেটের অবস্থা কেন এতটা খারাপ?
এই বিষয়টা নিয়েও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের একাংশের মতে, রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যই এই ক্র্যাশের অন্যতম কারণ। আসলে রবিবার মোদী দেশবাসীর কাছে আর্জি করেন, যাতে এখন কেউ সোনা না কেনেন। শুধু তাই নয়, পেট্রোল এবং ডিজেল বুঝেশুনে খরচ করার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ না করা, বিদেশি জিনিসের ব্যবহার কমানোর কথাও বলেন মোদী। আর তাতেই হু হু করে পড়ছে শেয়ারবাজার।
ও দিকে ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ চলছে তো চলছেই। যার ফলে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। আর সেটাও স্টক মার্কেটের উপর প্রভাব ফেলছে।
কোন কোন স্টক রেড জোনে?
আজ লার্জক্যাপ থেকে শুরু করে স্মলক্যাপ, সব সেক্টরই লালে লাল। টিসিএস, ইনফেসিস, টেক মাহিন্দ্রা, সান ফার্মা, টাটা স্টিল, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, কোট্যাক ব্যাঙ্ক ও আইটিসি-এর মতো শেয়ার আজ পড়ছে।
লার্জক্যাপ সেকশনে সবথেকে বেশি পড়েছে টাইটন ৬.৫০ শতাংশ, ইন্ডিগো ৩.৩০ শতাংশ এবং ভারতী এয়ারটেল ২.৬০ শতাংশ পড়েছে। মিডক্যাপ ক্যাটাগোরিতে অশোক লেল্যান্ড শেয়ার ৩.৪০ শতাংশ, গোদরেজ প্রপার্টির শেয়ার ৩.২০ শতাংশ, মুথুট ফিনান্স শেয়ার ৩.১৫, সুজলন শেয়ার ২.৫০ এবং পেটিএম শেয়ার ১.৫০ শতাংশ।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে আবার স্টক কিনবেন না বা বিনিয়োগ করবেন না। এটি খবর দেওয়ার এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিজেও করুন রিসার্চ। তারপরই স্টকে করুন ইনভেস্ট।