
১০ এবং ২০ টাকার প্লাস্টিকের বা পলিমারের নোট আনার পরিকল্পনা করেছে RBI। তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হল। RBI-এর সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড (BRBNMPL) সম্প্রতি একটি টেন্ডার প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই টেন্ডারে দুটি বিদেশি সংস্থা এবং একটি ভারতীয় সংস্থা বিড জমা দিয়েছে।
পলিমার নোট নিয়ে কেন বিশেষ শর্ত RBI-এর?
পলিমার নোট তৈরির ক্ষেত্রে এবার বেশ কিছু বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। ব্রিটেন-সহ কয়েকটি দেশে নোট তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানে প্রাণীর চর্বি নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার কথা মাথায় রেখেই RBI-এর প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু কড়া বিধি রাখা হয়েছে।
BRBNMPL-এর টেন্ডারে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলিকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
প্রথমত, সংস্থাগুলিকে হলফনামা দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, ভারতে নোট সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম চিন এবং পাকিস্তানের কার্যকলাপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
দ্বিতীয়ত, সংস্থাগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে যে নোট তৈরিতে ব্যবহৃত পলিমার শিটে কোনও ধরনের প্রাণীর চর্বি বা DNA থাকবে না।
রিপোর্ট অনুযায়ী, BRBNMPL-এর প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮,০০০ রিম পলিমার সাবস্ট্রেটের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। একটি রিমে থাকবে ৫০০টি পলিমার ফিল্মের শিট।
কোন কোন সংস্থা টেন্ডারে বিড করেছে?
এই টেন্ডারে ভারতীয় এবং বিদেশি- দুই ধরনের সংস্থাই অংশ নিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের অন্যতম বৃহৎ BOPP (Biaxially Oriented Polypropylene) রফতানিকারক সংস্থা Cosmo First ব্রিটেনের De La Rue-কে নিজেদের টেকনিক্যাল পার্টনার করেছে। De La Rue পলিমার নোটের ক্ষেত্রে সিকিউরিটি ফিচার এবং পলিমার সাবস্ট্রেট সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংস্থা CCL Secure-ও এই টেন্ডারে বিড জমা দিয়েছে। সংস্থাটি বিশ্বের ৪০টিরও বেশি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে পলিমার নোট সংক্রান্ত সমাধান দিয়ে থাকে। CCL Secure-এর দাবি, তাদের তৈরি পলিমার সাবস্ট্রেট সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি টেকসই।
এছাড়া ভিয়েতনামের সংস্থা Q&T Hi-Tech Polymer-ও টেন্ডারে অংশ নিয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি পলিমার নোটে প্রচলিত কটন কারেন্সির তুলনায় ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত কম খরচ হতে পারে।
কীভাবে পরীক্ষা করা হবে পলিমার নোট?
টেন্ডারে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলিকে নিজেদের তৈরি পলিমার সাবস্ট্রেটের নমুনাও জমা দিতে হবে। এরপর সেই নমুনাগুলি ভারতের বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলে পরীক্ষা করা হবে।
দেশের বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়া ও পরিবেশে পলিমার সাবস্ট্রেট কতটা টেকসই, শক্তিশালী এবং ব্যবহারযোগ্য- সেটিই পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর পলিমার নোটের কার্যকারিতা কেমন থাকে, তা বোঝার চেষ্টা করা হবে।
কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোটে কী সুবিধা?
সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোটকে বেশি শক্তিশালী এবং টেকসই বলে মনে করা হয়। জল, আর্দ্রতা এবং ধুলো-ময়লার প্রভাব এই ধরনের নোটের উপর তুলনামূলকভাবে কম পড়ে। ফলে সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোটের আয়ু কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।
পলিমার নোটে আধুনিক বিভিন্ন সিকিউরিটি ফিচার যুক্ত করা সম্ভব। এর মধ্যে উইন্ডো ট্রান্সপারেন্সির মতো প্রযুক্তিও থাকতে পারে। এর ফলে নোট জাল করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে।
এছাড়া পলিমারের মসৃণ পৃষ্ঠ পরিষ্কার রাখাও তুলনামূলকভাবে সহজ। ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরেও নোটের গুণমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে পলিমার নোট সুবিধাজনক হতে পারে।
অর্থাৎ, ১০ এবং ২০-এর মতো ছোট নোটে কাগজের পরিবর্তে পলিমার ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ভারতীয় মুদ্রাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে বিষয়টি এখনও টেন্ডার, নমুনা এবং পরীক্ষার পর্যায়েই রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়নের আগে পলিমার সাবস্ট্রেটের গুণমান, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জলবায়ুতে কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।