
বাজেটে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)–কে ফেরানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি সরকার। এক সময় পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান শেয়ার বাজার ছিল এটি। এই সিদ্ধান্তে স্টার্টআপ সেক্টর, প্রযুক্তি কর্মী এবং ব্যবসায়ী মহল কী ভাবছে?
সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। জানান, কলকাতার পুরনো আর্থিক গৌরব ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর মতে, ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় চালু হলে পূর্ব ভারতের ছোট-বড় কোম্পানিগুলির মূলধন সংগ্রহ অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি লিস্টিং ও ট্রেডিংয়ের খরচ কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
স্টার্টআপ জগতে এই সিদ্ধান্তকে কেউ আশার আলো হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বেঙ্গালুরুর আইটি স্টার্টআপ বিলেনিয়ামে কর্মরত অর্ণব ঘোষ বলেন, 'যদি সত্যিই CSE আধুনিক টেকনোলজি দিয়ে ফের চালু হয়, তাহলে পূর্ব ভারতের স্টার্টআপদের জন্য নতুন ফান্ডিং অপশন তৈরি হতে পারে। কিন্তু শুধু নামে ফিরিয়ে আনলেই হবে না, গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড মেনে গভীর রিফর্ম দরকার। এখন স্টক এক্সচেঞ্জ সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর। তার জন্য বিপুল খরচ ও কর্মী প্রয়োজন। সেই তুলনায় সংস্থা এনলিস্টেড হবে তো? সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।'
অন্যদিকে কলকাতার একটি বাস রাইড স্টার্টআপের কর্ণধার জানান, 'স্থানীয় বাজারে ফান্ডিং চ্যানেল বাড়লে ভালোই। কিন্তু এখন সবাই আগে সিড রাউন্ড থেকেই বড় ইনভেস্টমেন্ট তোলে। পরে শেয়ার মার্কেটে আসার সময় NSE ও BSE-কেই টার্গেট করে। সেখানে মার্কেট অনেক বড়। কলকাতার সঙ্গে কোনও তুলনাই হয় না। কেন কোনও সাকসেসফুল স্টার্টআপ BSE ছেড়ে এখানে আসবে? তবে যাদের মার্কেট ক্যাপ কম, ছোট সংস্থা, তারা CSE চালু হলে লাভবান হবে। সেটাই বেশি বাস্তবসম্মত।'
এই সিদ্ধান্তের বেশ কিছু সম্ভাব্য সুবিধা আছে। প্রথমত, পূর্ব ভারতের MSME এবং স্টার্টআপদের জন্য লোকাল ফান্ডিং হাব তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কলকাতায় ফিনান্সিয়াল জব এবং টেকনোলজি সম্পর্কিত কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে পরিকাঠামোগত দুর্বলতা, স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকার কারণেই CSE পিছিয়ে পড়েছিল। নতুন করে শুরু করতে হলে শক্তিশালী ডিজিটাল সিস্টেম, স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের টানাও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া NSE ও BSE-র মতো বড় বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের সম্ভাব্য পুনর্জন্মকে ঘিরে একদিকে যেমন আশার আলো তৈরি হয়েছে, তেমনই বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষাও অপেক্ষা করছে। এই পরিকল্পনা সত্যিই কলকাতার আর্থিক মানচিত্রে নতুন অধ্যায় শুরু করে কিনা, এখন সেটাই দেখার।