
ভারতের বিমা সংস্থায় ১০০% পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়পত্র দিল কেন্দ্র সরকার। শনিবার এই মর্মে এক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। এর মাধ্যমে বিমা সংস্থাগুলিতে ‘অটোমেটিক রুট’-এ ১০০ শতাংশ বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (FDI) অনুমোদন দেওয়া হল। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেটেই এই প্রস্তাবনার কথা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত Life Insurance Corporation of India বা LIC-এর ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম বহাল থাকছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, LIC-তে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ২০ শতাংশই থাকবে।
শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক প্রসার বিভাগ বা DPIIT একটি প্রেস নোট প্রকাশ করেছে। সেখানে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমা সংস্থাগুলিতে অটোমেটিক রুটের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ এবং পোর্টফোলিয়ো ইনভেস্টরদের বিনিয়োগে অনুমোদন দেওয়া হল। তবে তার আগে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা IRDAI-এর ছাড়পত্র পেতে হবে। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ ভেরিফিকেশনে পাশ করলে তবেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বিমা সংস্থায় টাকা ঢালতে পারবেন।
কেন্দ্রের এই নয়া সিদ্ধান্ত ‘সবকা বিমা সবকি রক্ষা’ সংশোধিত বিমা আইন, ২০২৫ মেনেই আনা হয়েছে। এর আগেই অর্থ মন্ত্রক এই আইনের বিষয়ে ঘোষণা করেছিল।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে বিমা সংস্থায় বিদেশি বিনিয়োগ থাকবে, সেখানে অন্তত একজন ভারতীয় নাগরিককে চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা CEO পদে থাকতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি শেয়ার বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের FEMA নির্দেশিকা অনুযায়ী স্ট্রাকচার মেনে চলতে হবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বিমা ক্ষেত্রে বিপুল বিদেশি পুঁজি আসতে পারে। তার ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং বিমা কভারেজের ক্ষেত্রেও উন্নতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫-২৬ পেশের সময়ই বিমা ক্ষেত্রে FDI-র সীমা ৭৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman)। সংসদে বাজেট ভাষণে তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছরে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং বিশ্ব মঞ্চে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে একাধিক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিনিয়োগে ছাড়পত্রও সেই পরিকল্পনার অংশ।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমা ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বাড়লে প্রতিযোগিতাও বাড়বে। তার ফলে গ্রাহকরা আরও উন্নত পরিষেবা পাবেন। একই সঙ্গে দেশের বিমা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির জোগানও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।