
আপনার পকেটে ফের চাপ পড়তে পারে। হ্যাঁ, দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় একাধিক জিনিসের দাম বাড়ার জল্পনা। ব্রিটানিয়া, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, ডাবর এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টসের মতো একাধিক বড় FMCG সংস্থা ফের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
রোজকার ব্যবহারের পণ্যের দাম (FMCG Products Price Hike) আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাগুলি। ফলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের পকেটে। এমনিতেই তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জেরে চাপে মধ্যবিত্তের সংসার। তার উপর FMCG পণ্যের দাম বাড়লে মাসের খরচ আরও বাড়তে পারে। এর আগে জুন ত্রৈমাসিকে (১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন) বড় FMCG সংস্থাগুলি তাদের পণ্যের দাম গড়ে ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। এবার ফের চলছে দাম বৃদ্ধির প্রস্তুতি।
তবে শুধু পণ্যের দাম বাড়ানোই নয়, সাধারণ মানুষের বাজেটে চাপ বাড়াতে পারে সংস্থাগুলির অন্য একটি কৌশলও। সরাসরি দাম অনেকটা বাড়ানোর বদলে প্যাকেটের ভিতরে পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে তারা। অর্থাৎ একই দামে কম পণ্য হাতে পেতে পারেন ক্রেতারা। সংস্থাগুলির লক্ষ্য, বিক্রি যাতে খুব বেশি না কমে যায়, অথচ লাভ থাকে।
কমতে পারে ৫ ও ১০ টাকার বিস্কুটের ওজন
বড় FMCG সংস্থা ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে আরও ১.৫ থেকে ২ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সরাসরি দাম বাড়ানোর বদলে ৫ টাকা ও ১০ টাকা দামের বিস্কুটের প্যাকেটের ওজন কিছুটা কমিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে তারা। ব্রিটানিয়ার দাবি, চিনি এবং পাম তেলের দাম বেড়েছে। ফলে বাড়ছে উৎপাদন খরচও।
অন্যদিকে, হিন্দুস্তান ইউনিলিভারও সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত দামবৃদ্ধি হতে পারে। চাপ সামলাতে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে পণ্যের দাম বাড়ানো হতে পারে। জুন ত্রৈমাসিকেই HUL তাদের বেশ কিছু পণ্যের দাম ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।
ডাবর, গোদরেজ, টাটার পণ্যও দামি
জুন ত্রৈমাসিকে গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ দাম বাড়িয়েছিল গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস। সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকেও আরও এক দফা দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
ডাবর ইন্ডিয়ারও আশঙ্কা, তাদের পণ্যে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম আরও বাড়তে পারে। সেই অতিরিক্ত খরচ সামলাতে পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে।
ডাবর ইন্ডিয়ার গ্লোবাল সিইও মোহিত মালহোত্রা জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়েছে।
টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টসও ইঙ্গিত দিয়েছে, কাঁচামাল কিনতে বেশি খরচ হলে পণ্যের দামে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।
কেন ফের দাম বাড়াচ্ছে FMCG সংস্থাগুলি?
রিপোর্ট বলছে, মূল কারণ হল উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি। চিনি এবং পাম তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিস্কুট-সহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেশি হয়েছে। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধিও বড় কারণ। বহু FMCG সংস্থার কাঁচামাল এবং অন্যান্য উৎপাদন উপকরণের দাম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।
যুদ্ধের অস্থিরতার প্রভাব
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। ব্যাহত হয়েছে জোগান। পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব শেষপর্যন্ত ক্রেতাদের উপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়াও দুর্বল বর্ষাকে আর একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছর এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কৃষিজ পণ্যের উৎপাদনে কী প্রভাব পড়ে, সে দিকে নজর রাখছে সংস্থাগুলি। কৃষিজ পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বাড়তে পারে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে FMCG পণ্যের উৎপাদন খরচে।
অর্থাৎ আগামী দিনে শুধু পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাই নয়, একই দামে কম পরিমাণ পণ্য পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।