
ইরানে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। আর এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিধ্বস্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে বাড়ি, ঘর, হাসপাতাল, স্কুল। জাহাজ, যুদ্ধবিমানও গোলাবারুদের মার খেয়ে ভেঙে পড়ছে। সংকটে পড়ছে তেল রফতানি।
আর এমন যুদ্ধ যুদ্ধ আবহে বড় সমস্যায় পড়েছে এশিয়ার মার্কেটেও। বিশেষত, অটোমোবাইল বা গাড়ি শিল্প মার খাচ্ছে। যার ফলে মহা ঝামেলায় পড়েছে চিন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো দেশ। এই সব দেশের বড় বড় গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থা লক্ষ লক্ষ গাড়ি প্রতিবছর মধ্যপ্রাচ্যে পাঠায়। আর এই সব গাড়ি রফতানি হয় হরমুজ প্রণালী থেকে। আর সেটা এখন প্রায় অবরুদ্ধ। এখান থেকে কোনও মালবাহী জাহাজকে যেতে দিচ্ছে না ইরান। যার ফলে ক্ষতি হচ্ছে।
চিনের ক্ষতি হবে
মধ্যপ্রাচ্যে রফতানির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন। শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই ৮.৩২ মিলিয়ন গাড়ি চিন বিদেশে বিক্রি করেছে বলে জানা গিয়েছে। আর তার মধ্যে ১.৩৯ মিলিয়ন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতেই পাঠানো হয়েছে বলে খবর। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে চিন এই সব দেশে গাড়ি পাঠাতে পারছে না। যার ফলে তাদের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ
ভারত ২০২৫ সালে ৮.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গাড়ি রফতানি করেছে। আর এই বিপুল রফতানির মধ্যে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই। এই অঞ্চলের মধ্যে সৌদি আরবে সবথেকে বেশি গাড়ি পাঠায় ভারত।
এই যেমন হুন্ডাই মোটরস ২০২৫ সালে যত গাড়ি এক্সপোর্ট করে, তার অধিকাংশই রফতানি করা হয় গালফের দেশগুলিতে। এমনকী টয়োটাও এই সব দেশে প্রচুর গাড়ি রফতানি করে।
টয়োটা জানিয়েছে ভারত থেকে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের গাড়ি তারা ২০২৫ সালে রফতানি করেছে। তার মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার শুধু মিডল ইস্টেই পাঠানো হয়। এমনকী নিসান মোটরও ২০২৫ সালে ৩১৮ ডলার মূল্যের গাড়ি রফতানি করে আমাদের দেশ থেকে।
যদিও শুধু চিন বা ভারত নয়, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার হালও বেজায় খারাপ হয়েছে। ৭২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গাড়ি তারা সারা পৃথিবীতে বিক্রি করেছে। ৫.৩ বিলিয়ন ডলারের গাড়ি বিক্রি করা হয়েছে মিডিল ইস্টে।
জাপান থেকেও টয়োটা গাড়ি রফতানি করে। আর সেই দেশ থেকে ৩২০,৬৯৯ গাড়ি শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই পাঠান হয় বলে খবর।আর এই সব তথ্য দেখলেই বোঝা যাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্য হল ভারত সহ এই সব দেশগুলির জন্য গাড়ি বিক্রির অন্যতম জায়গা। আর সেই জায়গাটাই এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত। প্রতিনিয়ত অ্যাটাক চলছে। যার ফলে এই অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে গাড়ি ভর্তি জাহাজ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাতেই ক্ষতির আশঙ্কা হচ্ছে।