
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ। শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার পেট্রোলে ইথানল মেশানো নিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গড়করির (Nitin Gadkari) বিরুদ্ধে জোরদার হচ্ছে প্রতিবাদ। মওকা বুঝে রাস্তায় নামছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে একটি কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ই২০ পেট্রোল নীতি (E20 Petrol) নিয়ে তোপ দাগেন। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, এই ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের ফলে যে শুধু গাড়ির মাইলেজ কমছে তা-ই নয়, যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ই২০ নিয়ে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের দোরগোড়ায় পৌঁছনোর ঘোষণা করলেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। জানালেন, আগামী ৪ অগাস্ট, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জনা শয়েক সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের অভিমুখে পদযাত্রা করবেন। কেজরিওয়ালের স্পষ্ট দাবি, যাঁরা লাঠি বা জেলযাত্রাকে ভয় পান না, তেমন মানুষদের নিয়েই তিনি এগোবেন। উদ্দেশ্য, ই-২০ পেট্রোলের বিরুদ্ধে অনলাইন পিটিশনে সই করা প্রায় দুই লক্ষেরও বেশি মানুষের গণস্বাক্ষরের প্রিন্টআউট সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া।
কেজরিওয়াল বলেন,'কয়েক দিন আগে আমরা ই২০ পেট্রোলের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন পিটিশন শুরু করেছিলাম। ইতিমধ্যেই তাতে দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ সই করেছেন। সেই পিটিশনের প্রিন্টআউট আমি বের করেছি। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সেই আবেদনপত্রগুলি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির দিকে রওনা দেব'।
একই সঙ্গে আপ প্রধান যোগ করেন,'সবাইকে আসার প্রয়োজন নেই। আমি নিজের সঙ্গে এমন ১০০ জন মানুষকে নিয়ে যাব, যাঁদের লাঠির ভয় নেই, যাঁরা জেলে যেতেও পিছপা নন। যাঁরা যেতে চান, তাঁরা সমাজমাধ্যমে আমাকে ট্যাগ করে জানান। ১০০ জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির দিকে রওনা হব, তার পর দেখা যাক কী হয়!'
অন্যায্য লাভ
কেজরিওয়ালের দাবি, তেল সংস্থাগুলিকে অন্যায্য লাভ পাইয়ে দিতেই কৃত্রিমভাবে পেট্রোলের দাম চড়া রাখা হয়েছে। লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ৮৪ টাকার কম হওয়া উচিত। অবিলম্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে ই২০ নীতি প্রত্যাহার করা হোক।
মেকানিককে ডাকেন কেজরিওয়াল
E20 পেট্রোল নিয়ে কেন্দ্রকে চেপে ধরার পাশাপাশি এক মোটরবাইক মেকানিক আমির খানকে মঞ্চে ডেকে নেন কেজরিওয়াল। ইথানল মিশ্রিত ই২০ জ্বালানির কারণে কীভাবে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে, সবিস্তার ব্যাখ্যা করেন ওই মেকানিক। আমির জানান, ১২-১৩ বছর ধরে তাঁর নিজস্ব গ্যারেজ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দু’চাকার গাড়ি সারানোর কাজ করছেন।
আমিরের দাবি, ইথানল মিশ্রিত ই২০ পেট্রোলের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে পুরনো BS4 মডেলের গাড়িগুলি। একটি পুরনো (BS3 ও BS4) গাড়ির কার্বুরেটর দেখিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন,'এই কার্বুরেটরের নীচের ক্যাপটিতে পেট্রোল জমা থাকে। গাড়ি এক মাস দাঁড়িয়ে থাকলে পেট্রোল সেখানেই জমে থাকে। ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল দীর্ঘ দিন থাকলে এক ধরনের মিষ্টি পদার্থ, শ্যাওলা জমতে শুরু করে। যার ফলে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। আগে এই সমস্যা দেখা যেত না, কিন্তু ইদানীং তা খুব বেড়েছে'।
BS6 মডেলেও সমস্যা
আমির একটি BS6 ফিউল পাম্প দেখিয়ে আরও বলেন,'বর্তমানে যে সব E20 চালিত BS6 গাড়ি বাজারে আসছে, সেগুলিতেও একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির পিক-আপ ও মাইলেজ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাচ্ছে। চলন্ত অবস্থায় পথেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গাড়ি।” ফিউল পাম্পটি দেখিয়ে তিনি জানান, ভিতরে থাকা ফিল্টারটি ই২০ পেট্রোলের কারণে খুব দ্রুত জ্যাম বা চোক হয়ে যায়। ফলে গাড়ি মেরামতির খরচ এবং সার্ভিসিং চার্জ অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।
ই২০ (E20 Petrol) ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ ২% থেকে ৬% পর্যন্ত কমতে পারে, সম্প্রতি সংসদে এ কথা স্বীকার করেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি সরকার জানিয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া BS-III গাড়িগুলির রবার পাইপ, সিল এবং গ্যাসকেটের মতো যন্ত্রাংশে ই২০ পেট্রোলের (E20 Petrol) প্রভাব পড়তে পারে। একাধিক পুরনো গাড়ির মালিক মাইলেজ কমা এবং মেরামতির খরচ বাড়ার যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তা একপ্রকার মানতেই বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র।
বলে রাখি, ই২০ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করির পরিবারিক যোগসূত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছিল। তবে কেজরিওয়াল জানান, শুধুমাত্র এই একটা কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ই২০ চালু করেছেন, এমনটা তিনি অন্তত মনে করেন না।