
বৃহস্পতিবার সংসদে ইকোনমিক সার্ভে পেশ করেছে কেন্দ্র সরকার। গত এক বছরে দেশের অর্থনীতির হাল তুলে ধরা হয় এই আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে দেশের অগ্রগতির একাধিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে দেশের GDP কতটা বাড়তে পারে, তার পূর্বাভাসও তুলে ধরা হয়েছে এই সমীক্ষায়। তবে সার্ভেতে আরও একটি নয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। দেশে আলট্রা প্রসেসড খাবারের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের এই আর্থিক সমীক্ষা। জাঙ্ক ফুডের অতিরিক্ত ব্যবহার ও এরফলে হওযা স্থূলতা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে আর্থিক সমীক্ষায়।
এই সার্ভেতে তুলে ধরা হয়েছে, আজ ভারত কী খাচ্ছে, তা আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। আলট্রা প্রসেসড খাবারের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তার সঙ্গে বাড়ছে স্থূলতা, ডায়াবিটিস, হৃদরোগ এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকি। এর ফলে উৎপাদনশীলতা কমবে। স্বাস্থ্যখাতে খরচ বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক চাপও বাড়তে পারে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের লং-টার্ম ইকোনমিক বৃদ্ধি শুধুমাত্র চাকরি ও স্কিলের উপর নির্ভর করে না। বরং কর্মক্ষম জনগণের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও নির্ভর করে। ন্যাশনাল ফ্য়ামিলি হেলথ সার্ভে-4 এর তথ্য উল্লেখ করে সার্ভেতে বলা হয়েছে, দেশে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতার পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ভারতে প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হয় ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতায় ভুগছে। তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ভারতে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ শিশু স্থূল ছিল। এই সংখ্যা ২০৩৫ সালের মধ্যে বেড়ে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লক্ষে পৌঁছাতে পারে। এর কারণ হিসেবে আলট্রা প্রসেসড খাবারের দ্রুত বিস্তারকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাঙ্ক ফুডের উপর আকর্ষণ কমাতে, এই পরিস্থিতিতে সার্ভেতে সুপারিশ করা হয়েছে, সমস্ত মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত UPF (আল্টা প্রসেস ফুড) -এর মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হোক। স্থূলতা এবং নন-কমিউনিকেবল ডিজ়িজ (NCD) মোকাবিলায় এটি সবচেয়ে কড়া নীতিগত প্রস্তাবগুলির একটি।
এছাড়াও, অপর একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, খাদ্যের লেবেলিং আরও ভালো করতে হবে। গ্রাহকরা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যে তাঁরা আসলে কী খাচ্ছেন। সার্ভেতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, স্থূলতা মোকাবিলা শুধুমাত্র সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভব নয়। "এর জন্য বেসরকারি খাতের সহযোগিতা এবং নাগরিকদের মধ্যে আরও সচেতনতা প্রয়োজন।