Advertisement

Eps Pension Calculation : ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার, নতুন নিয়মে কত পেনশন পাবেন প্রাইভেট চাকরিজীবীরা?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এতদিন যাঁদের বেসিক স্যালারি এবং মহার্ঘ ভাতা বা DA মিলিয়ে মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে EPS-এর নিয়ম প্রযোজ্য ছিল।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 17 Sep 2026,
  • अपडेटेड 3:36 PM IST
  • সরকারের বক্তব্য, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হল আরও বেশি কর্মীকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা
  • পেনশনের হিসাব কেমন হবে?

প্রাইভেট সেক্টরে চাকরি করা কর্মীদের জন্য পেনশন সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন নিয়মে পেনশনের আওতায় আরও বেশি কর্মী আসবেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রায় ৫১ লক্ষ কর্মী পেনশন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। এই সিদ্ধান্তের জেরে সরকারের উপরও অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়বে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এতদিন যাঁদের বেসিক স্যালারি এবং মহার্ঘ ভাতা বা DA মিলিয়ে মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে EPS-এর নিয়ম প্রযোজ্য ছিল। এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, যাঁদের বেসিক + DA ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত, তাঁরা নতুন নিয়মের আওতায় পেনশন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কর্মীর বেতন থেকে কি টাকা কাটা হবে?

EPS-এর জন্য কর্মীর হাতে পাওয়া বেতন থেকে আলাদা করে টাকা কাটার বিষয়টি নেই। নিয়োগকর্তার EPF কন্ট্রিবিউটের একটি অংশ EPS-এ যায়।
নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তার অবদানের ৮.৩৩ শতাংশ EPS বা পেনশন ফান্ডে যায়। বাকি অংশ EPF অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ফলে কর্মীর ইন-হ্যান্ড স্যালারি থেকে আলাদা করে EPS-এর টাকা কাটার প্রয়োজন হয় না।

সরকারের বক্তব্য, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হল আরও বেশি কর্মীকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা এবং অবসরের পরে তাঁদের নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করা।

কীভাবে পেনশন হিসাব হয়?

EPS-এর পেনশন হিসাব করার একটি নির্দিষ্ট সূত্র রয়েছে।

মাসিক পেনশন = পেনশনযোগ্য বেতন × পেনশনযোগ্য চাকরির বছর ÷ ৭০

এখানে পেনশনযোগ্য বেতন বলতে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বেসিক স্যালারি এবং DA-কে বোঝানো হচ্ছে। আর পেনশনযোগ্য চাকরির বছর হল EPS-এর আওতায় থাকা মোট চাকরির মেয়াদ। এছাড়া ২০ বছর বা তার বেশি সময় চাকরি করলে অতিরিক্ত ২ বছরের সার্ভিস ওয়েটেজ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন চাকরি করলে পেনশনের হিসাব কিছুটা বাড়তে পারে।

২৫ বছর বয়সে চাকরি শুরু করলে কত পেনশন?

Advertisement

ধরা যাক, কোনও কর্মীর বয়স এখন ২৫ বছর। তাঁর বেসিক স্যালারি এবং DA মিলিয়ে পেনশনযোগ্য বেতন ২৫ হাজার টাকা। যদি তিনি ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করেন, তাহলে তাঁর পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ হবে ৩৩ বছর। এর সঙ্গে ২০ বছরের বেশি সার্ভিসের জন্য অতিরিক্ত ২ বছরের ওয়েটেজ ধরলে মোট ৩৫ বছর ধরা হচ্ছে।

তাহলে হিসাব হবে- 

২৫,০০০ × ৩৫ ÷ ৭০ = ১২,৫০০ টাকা

অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আনুমানিক মাসিক পেনশন হতে পারে ১২,৫০০ টাকা।

৩০ বছর বয়সে চাকরি শুরু করলে?

এবার ধরা যাক, কর্মীর বয়স ৩০ বছর এবং তাঁর বেসিক + DA হল ২৫ হাজার টাকা। তিনি যদি ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করেন, তাহলে পেনশনযোগ্য সার্ভিস হবে ২৮ বছর। এর সঙ্গে ২০ বছরের বেশি সার্ভিসের জন্য ২ বছরের অতিরিক্ত ওয়েটেজ ধরলে মোট ৩০ বছর ধরা হবে।

তাহলে হিসাব দাঁড়াবে- 

২৫,০০০ × ৩০ ÷ ৭০ = প্রায় ১০,৭১৪ টাকা

অর্থাৎ, এই পরিস্থিতিতে আনুমানিক মাসিক পেনশন হতে পারে ১০,৭১৪ টাকা।

বয়স যত কম, সার্ভিস তত বেশি

এই দুই উদাহরণ থেকেই বিষয়টি সহজে বোঝা যায়। একই ২৫ হাজার টাকা পেনশনযোগ্য বেতন থাকলেও যিনি কম বয়সে চাকরি শুরু করছেন, তাঁর পেনশনযোগ্য সার্ভিসের মেয়াদ বেশি হবে। ফলে হিসাব অনুযায়ী তাঁর পেনশনের পরিমাণও বেশি হতে পারে। ২৫ বছর বয়সে চাকরি শুরু করলে ৫৮ বছর পর্যন্ত ৩৩ বছরের সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে। অতিরিক্ত ২ বছরের ওয়েটেজ ধরলে হিসাবের সময় ৩৫ বছর হচ্ছে।

অন্যদিকে, ৩০ বছর বয়সে চাকরি শুরু করলে ৫৮ বছর পর্যন্ত সার্ভিস ২৮ বছর। ২ বছরের ওয়েটেজ ধরলে তা ৩০ বছর হয়।

এই কারণেই প্রথম ক্ষেত্রে আনুমানিক পেনশন ১২,৫০০ টাকা এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রায় ১০,৭১৪ টাকা হচ্ছে।

তবে একটা বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে

এই হিসাবটি একটি নির্দিষ্ট উদাহরণের ভিত্তিতে করা। বাস্তবে EPS পেনশন নির্ধারণের সময় পেনশনযোগ্য বেতন এবং পেনশনযোগ্য সার্ভিসের প্রকৃত তথ্য বিবেচনা করা হয়।

অর্থাৎ, কোনও কর্মীর পুরো চাকরিজীবনে বেসিক + DA সবসময় ২৫ হাজার টাকা থাকবে- এমনটা ধরে নিয়ে সরাসরি ভবিষ্যতের পেনশন নিশ্চিত করে বলা যায় না। পেনশনযোগ্য বেতন, EPS-এর আওতায় থাকা চাকরির মেয়াদ এবং অবসরের সময়কার প্রযোজ্য নিয়মের উপর চূড়ান্ত হিসাব নির্ভর করবে।

তাই ২৫ হাজার টাকা বেসিক + DA হলেই যে প্রত্যেক কর্মী অবসরের পরে ঠিক ১২,৫০০ টাকা বা ১০,৭১৪ টাকা পেনশন পাবেন, তা নয়। উপরের হিসাব শুধুমাত্র বোঝানোর জন্য দেওয়া উদাহরণ।

তবে সহজ কথায় বিষয়টি হল- পেনশনযোগ্য বেতন ২৫ হাজার টাকা থাকলে এবং দীর্ঘ সময় EPS-এর আওতায় চাকরি করলে, চাকরির মেয়াদ যত বেশি হবে, সূত্র অনুযায়ী পেনশনের অঙ্কও তত বেশি হওয়ার সুযোগ থাকবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement