
দেশের বাজার থেকে হু হু করে টাকা বের করে নিচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তার ফলে অর্থনীতিতে বিপদ বাড়ছে। যদিও এবার সেই সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর থেকে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডের সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। আর ইরান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, টাকার ওপর চাপ বৃদ্ধির মধ্যে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে খবর মিলছে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে আয়কর আইন সংশোধনের জন্য একটি অর্ডিন্যান্স জারিরও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পরই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
বিদেশি পুঁজি টানতে বড় উদ্যোগ
সরকারের লক্ষ্য হল ভারতীয় ঋণ বাজার বা ডেবট মার্কেটে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আনা। এর মাধ্যমেই ইরান যুদ্ধ ও তেলের দাম বৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে সরকার বলে খবর মিলছে।
সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন। ফলে টাকার ওপর চাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বারবার বিদেশি পুঁজি টেনে আনার জন্য নতুন পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। আর এবার সেই পথেই হাঁটল কেন্দ্রীয় সরকার।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কী লাভ?
বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও বন্ডে ১২ মাসের বেশি সময় বিনিয়োগ ধরে রাখলে ১২.৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হয়।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতের সরকারি সিকিউরিটিজ বা সরকারি বন্ডে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ থেকে আসা লাভের ওপর আর কোনও ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স লাগবে না।
এছাড়া সরকারি বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদের আয়ের ওপর করের বোঝা কমানোর বিষয়েও সরকার বিবেচনা করছে বলে সূত্রের খবর।
বর্তমানে সরকারি বন্ড থেকে পাওয়া সুদের ওপর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ উইথহোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হয়। অবশ্য ২০২৩ সালের আগে এই ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের একটি ছাড়ের হার কার্যকর ছিল। পরে অবশ্য সেটা প্রত্যাহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান কর কাঠামোর কারণে ভারতের সরকারি বন্ড ও অর্থনীতির অন্যান্য সেক্টর থেকে মুখ ফিরিয়েছিলেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। যদিও এখন বদলে যাচ্ছে পরিস্থিতি।
টাকার মূল্য ও অর্থনীতিতে কী প্রভাব?
সরকারের আশা, এই ট্যাক্স ছাড়ের ফলে ভারতীয় বন্ড বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। দেশে আসবে ডলার। সরকারি বন্ডে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এলে টাকার মূল্য স্থিতিশীল রাখা যাবে। ঋণের বাজারে লিকিউডিটি বাড়বে। অতিরিক্ত মূলধনের উৎস তৈরি হবে।
বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের অত্যধিক দামের কারণে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। এমনকী দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশের বৈদেশিক আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে সরকার।