
'গোবর্ধন' (GOBARdhan Scheme) প্রকল্পে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এই স্কিমের জন্য ২৩,৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনে চলবে এই পুরো প্রকল্পটি। এর পুরো অর্থ Galvanizing Organic Bio-Agro Resources Dhan। দেশে কমপ্রেসড বায়োগ্যাসের (CBG) উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
এই প্রকল্পটিকে 'ন্যাশনাল সার্কুলার বায়ো এনার্জি স্কিম' নামে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সোজা কথায়, গবাদি পশুর গোবর, ফসলের অবশিষ্টাংশ, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং অন্যান্য পচনশীল জঞ্জাল যেখানে-সেখানে না ফেলে, সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে বায়োগ্যাস, কমপ্রেসড বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও জৈব সার তৈরির প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া হবে।
সিএনজি ও পাইপড গ্যাসে হবে মিশ্রণ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থাগুলির জন্য কমপ্রেসড বায়োগ্যাস মেশানো বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী, ২০২৭ আর্থিক বছরে ৩ শতাংশ, ২০২৮ সালে ৪ শতাংশ এবং ২০২৯ সাল থেকে ৫ শতাংশ মিশ্রণের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। পরিবহণ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সিএনজির পাশাপাশি ঘরে ঘরে সরবরাহ করা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাসেওর এই নিয়ম খাটবে।
প্রতি MMBTU ২,১১০ টাকা
কমপ্রেসড বায়োগ্যাসের দর প্রতি MMBTU-তে (তাপ ও শক্তি মাপার একক) ২,১১০ টাকা ঠিক করেছে সরকার। এর উদ্দেশ্য হল, বায়োগ্যাস উৎপাদনকারীদের দীর্ঘমেয়াদী উপার্জনের ভরসা দেওয়া এবং নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। সরকারের মতে, এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও জ্বালানির দাম নাগালের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে।
200-র বেশি বায়োগ্যাসের কারখানা
২০২৭ থেকে ২০৩৬ আর্থিক বছর পর্যন্ত এই পরিকল্পনা চলবে। এর অধীনে দেশে কমপ্রেসড বায়োগ্যাসের উৎপাদন বর্তমানের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ভারতে ক্রমাগত বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা। এই পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এগোচ্ছে কেন্দ্র। এই বায়োগ্যাস যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা সম্ভব। কেন্দ্রের দাবি, সাসটেইনেবল অল্টারনেটিভ টুওয়ার্ডস অ্যাফোর্ডেবল ট্রান্সপোর্টেশন' (SATAT) উদ্যোগের আওতায় ইতিমধ্যেই দেশে দুশোরও বেশি কমপ্রেসড বায়োগ্যাস কারখানা চালু হয়ে গিয়েছে।
কৃষক ও গ্রামীণ কারবারিদের সুযোগ
কেন্দ্রের আশা, গোবর্ধন প্রকল্প কৃষক, গ্রামীণ কারবারি এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। কৃষি এবং পুরসভার বর্জ্যের যথাযথ ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত আয়ের পথ প্রসারিত হবে। পাশাপাশি বেসরকারি বাড়়বে বিনিয়োগ। সেই সঙ্গে জৈব সারের উৎপাদন বৃদ্ধিও জঞ্জালের সঠিক ব্যবহারও হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতাও কমে যাবে।
জ্বালানি আমদানিতে সাশ্রয়
সরকারের আশা, দেশে কমপ্রেসড বায়োগ্যাসের উৎপাদন এক ধাক্কায় প্রায় দশ গুণ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, এই খাতে বিপুল পরিমাণ বেসরকারি বিনিয়োগ আসার পথও সুগম হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার ক্ষেত্রে ভারত অনেকটাই বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশের মোট ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০ শতাংশই বিদেশ থেকে আনতে হয়। কিন্তু ইরান এবং ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভারতে এলএনজি (LNG) আমদানির প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই অভ্যন্তরীণ বায়োগ্যাস উৎপাদনে এত বড় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।