
সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর এক ধাক্কায় অনেকটাই সস্তা হল দুই মূল্যবান ধাতু। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ৯৯৯ বিশুদ্ধ সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৩১০৬ টাকা কমে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে, এক কেজি রুপোর দাম কমেছে ৫৪৩৭ টাকা। ফলে প্রতি কেজি রুপোর দাম হয়েছে ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬৩ টাকা। উৎসবের মরশুমের পর মূল্যবান ধাতুর দামে এই পতনে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন ক্রেতারা। তবে গত বছরের ধনতেরাসের সময় যাঁরা সোনা কিনেছিলেন, তাঁরা এখনও লাভের মুখ দেখছেন। কারণ, এক বছরের কিছু বেশি সময়ে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৮.৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছর কেনা ১০ গ্রাম সোনার দাম এখন প্রায় ১১ হাজার ৪৩৯ টাকা বেশি।
একদিনে কতটা সস্তা হল সোনা ও রুপো?
IBJA-র ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর ৯৯৯ বিশুদ্ধ সোনার দাম ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ১২৯ টাকা। ৬ নভেম্বর তা এক ধাক্কায় ৩১০৬ টাকা কমে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩ টাকায় নেমে এসেছে।
রুপোর দামেও বড় পতন হয়েছে। ৫ নভেম্বর প্রতি কেজি রুপির দাম ছিল ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩০০ টাকা। শুক্রবার তা ৫৪৩৭ টাকা কমে হয়েছে ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬৩ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র একদিনের ব্যবধানে সোনা ও রুপো, দুই মূল্যবান ধাতুর দামেই বড়সড় পতন দেখা গিয়েছে।
গত ধনতেরাসে কত ছিল সোনার দাম?
গত বছর ধনতেরাস পড়েছিল ১৮ অক্টোবর, শনিবার। IBJA সাধারণত শনিবার ও রবিবার সোনা-রুপোর দর প্রকাশ করে না। তাই গত বছরের ধনতেরাসের সময় সোনার দামের সঙ্গে বর্তমান দরের তুলনা করতে ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এর দামকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
IBJA-র তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এ ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সোনার দাম ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৫৮৪ টাকা। ৬ নভেম্বর ২০২৬-এ সেই দাম বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩ টাকা।
অর্থাৎ, গত বছরের ধনতেরাসের সময় যাঁরা ১০ গ্রাম সোনা কিনেছিলেন, তাঁদের সোনার বর্তমান মূল্য বেড়েছে ১১ হাজার ৪৩৯ টাকা। শতাংশের হিসেবে এই বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৮.৮৩ শতাংশ। একদিনে সোনার দাম কমলেও গত বছরের তুলনায় এখনও অনেকটাই বেশি রয়েছে হলুদ ধাতুর দাম।
১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে এখন কত হত?
ধরা যাক, গত বছরের ধনতেরাসের সময় কেউ সোনায় ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। IBJA-র দেওয়া দাম অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর ২০২৬-এ সেই বিনিয়োগের মূল্য বেড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার ৮২৭ টাকা হত। অর্থাৎ, এক বছরের কিছু বেশি সময়ে ১ লক্ষ টাকার বিনিয়োগে লাভ হত প্রায় ৮৮২৭ টাকা।
অন্যদিকে, যাঁরা গত বছর সরাসরি ১০ গ্রাম সোনা কিনেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বর্তমান দরের নিরিখে দাম বেড়েছে ১১ হাজার ৪৩৯ টাকা।
তবে এই হিসাব সম্পূর্ণভাবে IBJA-র সোনার দরের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ শতাংশ GST এবং গয়নার মেকিং চার্জ ধরা হয়নি। ফলে বাস্তবে সোনা কেনা বা বিক্রির সময় লাভের পরিমাণ কিছুটা আলাদা হতে পারে।
রেকর্ড উচ্চতা থেকে নামলেও গত বছরের তুলনায় এখনও দামি সোনা
২০২৬ সালে সোনার দামে একাধিক ওঠানামা দেখা গিয়েছে। বছরের শুরুতে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তার পর থেকে মূল্যবান এই ধাতুর দামে বড়সড় সংশোধন হয়েছে। সাম্প্রতিক পতনের পরেও গত বছরের ধনতেরাসের সময়কার দামের তুলনায় সোনা এখনও অনেকটাই দামি।
সোনার দামের ওঠানামার পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করে। মার্কিন ডলারের গতিবিধি, আমেরিকার সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সোনার দামের উপর প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সোনা কেনা এবং গোল্ড ETF-এ বিনিয়োগের পরিমাণও সোনার বাজারকে প্রভাবিত করে।
তবে গত এক বছরে সোনার দাম যতটা বেড়েছে, ভবিষ্যতেও একই হারে বাড়বে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই সোনায় বিনিয়োগের আগে বাজারের ওঠানামা, নিজের আর্থিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগের লক্ষ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।