Advertisement

Gold Monetisation Scheme এ বড় বদল সরকারের? ঘরে রাখা সোনাতেই সুদ

ভারতে ঘরে ঘরে এবং বহু মন্দিরের সিন্দুকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সোনা। এই বিপুল সোনার পরিমাণ আর কোনও দেশে নেই। সেই গচ্ছিত সোনাই এবার অর্থনীতিতে কাজে লাগানোর ভাবনা।

গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিম।গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিম।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 14 Aug 2026,
  • अपडेटेड 9:01 PM IST
  • গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমে বড় বদল করতে চলেছে কেন্দ্র।
  • সোনার কারবারিরাও পাবেন কমিশন।

গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম (GMS) বা সোনা নগদীকরণ প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের তুলনায় নতুন স্কিমের রূপরেখা হতে চলেছে একেবারেই আলাদা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল, এবার এই স্কিমে বড় ভূমিকা পেতে চলেছেন সোনা ব্যবসায়ীরা। চলতি মাসের শেষেই এই নয়া স্কিমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। 

দেশের কোটি কোটি পরিবার এবং শত শত মন্দিরের সিন্দুকে কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে টন টন সোনা। এই বিপুল সোনার পরিমাণ বিশ্বের আর কোনও দেশে নেই বললেই চলে। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার! কিন্তু ব্যাঙ্কের গচ্ছিত আমানত, নগদ টাকা বা শেয়ার বাজারের মতো এই বিশাল পরিমাণ সোনা দেশের মূল অর্থনীতিতে  সরাসরি কোনও অবদান রাখতে পারছে না।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের আনুমানিক হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতীয় পরিবার এবং মন্দিরগুলির কাছে প্রায় ২৫ হাজার টন সোনা রয়েছে। তবে জুয়েলারি শিল্পের একাংশের দাবি, এই পরিমাণটা প্রায় ৩০ হাজার টনের কাছাকাছি। এমনকি বেশ কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভারতে ঘরে ঘরে জমে থাকা মোট সোনার পরিমাণ নাকি ৫০ হাজার টনও ছুঁয়ে ফেলতে পারে। 

গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম কী? 

সোনার ব্যাঙ্ক বলা চলে এই গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমকে। এখানে সোনা জমা রাখলে নির্দিষ্ট হারের সুদ পান গ্রাহকেরা। অন্যদিকে সোনা ব্যবসায়ীদের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের ঝুলিতেও প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আসতে পারে।

সহজ ভাষায়, গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম হল ব্যাঙ্কে টাকা রাখার মতো সোনা রেখে সুদ পাওয়া। কেন্দ্রের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ভারতীয় বিআইএস (BIS) অনুমোদিত কালেকশন অ্যান্ড পিওরিটি টেস্টিং সেন্টারগুলিতে (CPTC) সোনা জমা নেওয়া হয়। জমা রাখা সোনার নিরিখে ডিপোজিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। স্বল্পমেয়াদি (১-৩ বছর) ব্যাঙ্ক আমানত (STBD) এবং মাঝারি (৫-৭ বছর) ও দীর্ঘমেয়াদি (১২-১৫ বছর) সরকারি আমানত প্রকল্পের (MLTGD) অধীনে সোনা জমা নেয় কয়েকটি ব্যাঙ্ক। স্বল্পমেয়াদি আমানতে সুদের হার কতটা হবে, তা আন্তর্জাতিক লিজ রেট, অন্যান্য খরচ এবং বাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ব্যাঙ্কগুলি নিজেরাই ঠিক করে। সেই সুদের খরচ নিজেই বহন করে ব্যাঙ্ক। অন্যদিকে, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে সুদের হার সময়ে সময়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দ্র ঠিক করে দেয়। এর খরচ বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার।

Advertisement

ভাগ্য খুলবে সোনা ব্যবসায়ীদের?

অল ইন্ডিয়া জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি কাউন্সিলের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজেশ রোকড়ে জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই সোনা নগদীকরণ প্রকল্প নতুন করে চালু করতে চলেছে সরকার। এবার বড় ভূমিকা থাকবে সোনা ব্যবসায়ীদের। এ বিষয়ে সরকারের থেকে আর দু'-একটি প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মেলার অপেক্ষা মাত্র।

তাঁর মতে, ঘরে ঘরে পড়ে থাকা সোনার গয়নাকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে দারুণ কার্যকর হবে এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জমা রাখা সোনা কাঁচামাল হিসেবে গয়না শিল্পে ব্যবহার করা সম্ভব হলে ভারতে সোনা আমদানির ওপর নির্ভরতা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমবে।

১ শতাংশ কমিশন

ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (IBJA) তরফে কেন্দ্রকে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের থেকে জমা নেওয়া সোনা সরাসরি রিফাইনারদের হাতে তুলে দেবেন। এর বিনিময়ে রিফাইনারদের থেকে ১ শতাংশের কাছাকাছি কমিশন পাবেন। 

IBJA-এর চেয়ারম্যান পৃথ্বীরাজ কোঠারি জানিয়েছেন, গ্রাহকদের জমা রাখা সোনা যত্ন করে গচ্ছিত রাখার জন্য মোট মূল্যের ওপর প্রায় ১ শতাংশ কমিশন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ব্যবসায়ীদের।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement