
জুলাইয়ে কিছুটা কমেছিল। উৎসবের মরসুমের আগে আবার আগুন সোনার দাম। গত ৬ অগাস্ট গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে এই মহার্ঘ ধাতু। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এমসিএক্সে (MCX) ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ৮০০ টাকা লাফিয়ে পৌঁছয় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ২৯৬ টাকায়। সোনা বিকিকিনির ঘরোয়া বাজারেও বেড়েছে দর।
কেন এই আচমকা দামবৃদ্ধি?
সোনার দরবৃদ্ধির পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কমা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা থিতু হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি কমবে বলে আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা। আর এর ফলেই সোনা কেনার ধুম পড়েছে। বাজারে মূল্যবৃদ্ধি আরও কমলে বিশ্বের একাধিক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার কমাতে পারে। সাধারণত সুদের হার কমলে সোনার বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। দর হু-হু করে বাড়ে।
সোনার দামে এই দ্রুত গতির দ্বিতীয় বড় কারণ হল, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনাকেই আঁকড়ে ধরছেন অধিকাংশ লগ্নিকারী।
ঘরোয়া বাজারে সোনার দাম
সাধারণত ২২ ক্যারেট সোনাতেই তৈরি হয় গয়না। শুক্রবার বাংলায় ২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৫০ টাকা। আর হলমার্ক দেওয়া সোনার গয়না বিকোচ্ছে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৯০০ টাকায়। আগের দিনের দামটাও জেনে রাখুন। বৃহস্পতিবার এই ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। আর হলমার্ক সোনার গয়না ১ লক্ষ ৪২ হাজার ১০০ টাকায় বিকোচ্ছিল। পরিসংখ্যানেই বুঝতে পারছেন, বৃহস্পতিবারের চেয়ে আজ, শুক্রবার বেশি দামে বিকোচ্ছে সোনা।
এখনই কি সোনা কেনা বা বেচার উপযুক্ত সময়?
বাজারের বর্তমান প্রবণতা দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দামে এই উত্থান এখনই থামছে না। তবে তার মানে এই নয় যে বর্তমান চড়া দামেই লগ্নিকারীদের নতুন করে কেনাকাটা শুরু করা উচিত। সোনা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকার উপরে দর ধরে রাখতে পারলে তার পরবর্তী ঊর্ধ্বমুখী লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৭০০ টাকা। আর এই স্তর ভেঙে বেরোতে পারলে সোনার দর আরও নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে।
এমসিএক্সে সোনা কেনা-বেচা
বাজারের ভাষায়, সোনার দামে টেকনিক্যাল বাউন্স লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোজা কথায়, আগামী দিনে দাম আরও বাড়ার আভাস। পরবর্তী রেজিস্ট্যান্স লেভেল ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে। সোনার দর যদি এই গণ্ডি টপকে উপরে উঠে যায়, তবে খুব শীঘ্রই তা ১ লক্ষ ৫২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৮০০ টাকার স্তর ছুঁয়ে ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সাপোর্ট লেভেলের দিকেও নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।